ইমরান খানের মুক্তির লড়াইয়ে রাজপথে নতুন মুখ

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি। 

 

৩৭ বছর বয়সী এই নেতা এখন শুধু প্রাদেশিক সরকারের প্রধান নন, পিটিআইয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠকও হিসাবেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

 

মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘমিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পিটিআই। 

 

দলটির দাবি, তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে। কর্মসূচি ঘিরে এরই মধ্যে সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। 

 

আফ্রিদির অভিযোগ, তার দলের নেতাকর্মী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। চলতি মাসে তার দুই মন্ত্রীও হামলার শিকার হয়েছেন। 

 

পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী মিছিলটি প্রথমে গত রোববার হওয়ার কথা ছিল। তবে ইমরান খানের বোনদের গ্রেফতার এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার দিক থেকে রাজধানীতে প্রবেশের পথ বন্ধ করার সরকারি উদ্যোগের পর কর্মসূচি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়। 

 

আফ্রিদি বলেছেন, এটি আত্মসমর্পণ নয়, রাজনৈতিক কৌশল। 

 

তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ৪ অক্টোবর মিছিল হবে এবং ৫ অক্টোবর খানের জন্মদিনে ‘বিজয় দিবস’ পালন করা হবে। সোহাইল আফ্রিদির রাজনৈতিক উত্থানও দ্রুত।

 

১৯৮৯ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বারায় জন্ম নেওয়া আফ্রিদি পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় পিটিআইয়ের ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইমরান খানের নির্দেশে আলী আমিন গান্দাপুরের জায়গায় তাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় বলে পিটিআইয়ের নেতৃত্ব জানিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে সামরিক অভিযান নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও পরে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমের রাজা মনে করেন, এটিকে সরাসরি অবস্থান পরিবর্তন বা আত্মসমর্পণ হিসাবে দেখা উচিত নয়। 

 

ইমরান খান কারাগারে থাকায় আফ্রিদি এখন পিটিআইয়ের রাজপথের আন্দোলনে অন্যতম প্রধান মুখ। আগামী ৪ অক্টোবরের কর্মসূচি তার এই জাতীয় রাজনৈতিক ভূমিকারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে।

এইচএন
আরও পড়ুন