মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন থেকে বেরিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরাক। দেশটির মন্ত্রিসভা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটির সময়টিকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মিডিয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি এর আগে মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে সরকারি মিডিয়া সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকি সার্বভৌমত্ব দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক প্রত্যাহার ৩০ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন হয়েছে। দেশটির শেষ কয়েকটি ঘাঁটি ও স্থাপনা থেকে মার্কিন সেনারা সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ইরাকে জোটের সামরিক মিশনের অবসান হলো। তবে এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি বলেছেন, জোটের সামরিক মিশন শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনায় একমত হয়। এর মাধ্যমে জোটের কাঠামোর পরিবর্তে দুই দেশের সরাসরি নিরাপত্তা অংশীদারত্বে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরিকল্পনার প্রথম ধাপ শেষ হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযানকে সহায়তা করতে জোটের কিছু সেনা কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপও শেষ হওয়ার কথা।
ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা আইএস দখল করে নেওয়ার পর ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করতে গ্লোবাল কোয়ালিশন গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ইরাকে জোটের ভূমিকা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যে সীমিত হয়ে আসে। এখন সামরিক মিশন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন কাঠামোয় যাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র- শাফাক নিউজ
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইরাকের কুর্দিরা
২০২৫ সালে গাজার ৭০ শতাংশ মৃত্যু সরাসরি হামলায়