কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO)। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময়ের ঘটনা সম্পর্কে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি কাতারের মদিনাত আশ শামালের প্রায় ৯৪ কিলোমিটার (৫১ নটিক্যাল মাইল) উত্তরে অবস্থান করছিল। সেখানে ট্যাংকারটিতে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। UKMTO জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
হামলার দায় কার, স্পষ্ট নয়
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ট্যাংকারটির নাম, পতাকাবাহী দেশ, মালিকানা বা গন্তব্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে কী ধরনের প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কারা হামলা চালিয়েছে—এ বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
UKMTO-এর প্রাথমিক সতর্কবার্তায় শুধু বলা হয়েছে, একটি ট্যাংকার একাধিক প্রজেক্টাইলের আঘাতের কথা জানিয়েছে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমাকে কেন্দ্র করে ঘটছিল। কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে সর্বশেষ হামলাটি হরমুজ প্রণালির পশ্চিম দিকে উপসাগরের আরও বিস্তৃত এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হরমুজে বাড়ছে জাহাজে হামলা
UKMTO-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালিতে একাধিক ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। ৫ অক্টোবরও প্রণালির ভেতরে দুটি পৃথক ঘটনায় ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল আঘাতের খবর পাওয়া যায়। এর একটি ঘটনায় ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগলেও সে সময় কোনো হতাহতের খবর ছিল না।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে—২৩ জুলাইয়ের পর যা সর্বনিম্ন। একই সময়ে প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনও আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমে দৈনিক প্রায় ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
কাতারের জন্যও বাড়ছে ঝুঁকি
কাতার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ LNG রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির রাস লাফান বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ LNG আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে কাতারের আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়লে শুধু জাহাজ চলাচল নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার ঝুঁকি বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামগ্রিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। তবে জাহাজ পরিচালনা, বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তেল পরিবহনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তেলের বাজারেও প্রভাব
কাতারের কাছে ট্যাংকারে হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রয়টার্সের হিসাবে বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩৩ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫৩ ডলারে এবং মার্কিন WTI ১ দশমিক ১১ ডলার বেড়ে ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে পরিবহন ব্যয়, বীমা ব্যয় এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা
কাতারের উপকূলের কাছে সর্বশেষ হামলাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে কাতারের উত্তর উপকূলে ট্যাংকারে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি।
UKMTO বর্তমানে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ট্যাংকারটির ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃতি ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় জলসীমায় পরপর বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অনলাইনে রেলের টিকিট মুহূর্তে শেষ, আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা
রাতে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে কড়াকড়ি
১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমাদানির সিদ্ধান্ত