ইরানে অবাধ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ এএম

ইরানের জনগণের জন্য অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো এবং সরকারি সেন্সরশিপ, নজরদারি ও ইন্টারনেট বন্ধের বিধিনিষেধ এড়িয়ে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে নতুন একটি দ্বিদলীয় বিল উত্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কংগ্রেস সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্লডিয়া টেনি ও ইয়াসামিন আনসারি ‘ইন্টারনেট রিচ অ্যান্ড অ্যাকসেস নাউ (IRAN) অ্যাক্ট’ নামের বিলটি উত্থাপন করেন।

ক্লডিয়া টেনির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনটির লক্ষ্য ইরানে উন্মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ আরও জোরদার করা। এর মাধ্যমে ইরানের নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো এবং অনলাইন যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও বাধা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার মূল্যায়ন করা হবে।

ইন্টারনেট স্বাধীনতা কৌশল পর্যালোচনার প্রস্তাব

বিলটি আইনে পরিণত হলে ইরানে ইন্টারনেট স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া কৌশল নিয়মিত পর্যালোচনা, বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান যুক্ত হবে।

এতে ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন), বিকেন্দ্রীভূত ও পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক এবং সরাসরি সেলফোনে স্যাটেলাইট যোগাযোগের মতো প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি ইন্টারনেট ব্যবহারের বিকল্প পথ তৈরি করতে এবং সংযোগের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা

প্রস্তাবিত আইনে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষিত ডিজিটাল সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মার্কিন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এর উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিধান যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে উন্মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রযুক্তি ও সেবায় প্রবেশের সুযোগ সীমিত না করে।

‘তথ্যপ্রাপ্তি ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের জন্য হুমকি’

বিলটির অন্যতম প্রস্তাবক ক্লডিয়া টেনি বলেন, ইরানের সরকার তথ্যপ্রাপ্তিকে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণেই দেশটিতে সেন্সরশিপ, নজরদারি ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য প্রস্তাবক ইয়াসামিন আনসারি বলেন, অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ মানুষের তাৎক্ষণিক উপকারে আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, প্রস্তাবিত উদ্যোগটি দ্বিদলীয় এবং এতে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

প্রস্তাবিত আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক ইন্টারনেট স্বাধীনতা নীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নির্ভর করবে আইন প্রণয়নের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগুলোর কার্যকারিতার ওপর।

এমইউ
আরও পড়ুন