ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত শক্তিশালী প্রচলিত বোমা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না। আমাদের তা করার প্রয়োজন নেই। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।’
সাক্ষাৎকারে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি মোটেও পারমাণবিক অস্ত্র নয়। এটি অত্যন্ত বড় একটি বোমা।’
এমওএবি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রচলিত বোমা। এতে প্রায় সাড়ে আট টন বিস্ফোরক থাকে। মাটিতে আঘাত করার আগেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়ে বিস্তৃত এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণ-তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ইরানের গভীরে মাটির নিচে নির্মিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে। ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের নিচে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেগুলোতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এমওএবির সক্ষমতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এ ছাড়া বোমাটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে বড় আকারের পরিবহন বিমান প্রয়োজন। ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এ প্রয়োজনীয়তা সামরিক পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা কম। তবে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাকে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন নতুন করে বিমান হামলা চালাবে, নাকি ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখবে—তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করলেও প্রচলিত অস্ত্রের ব্যবহার বা অন্য সামরিক বিকল্প সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্যে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী কারা, প্রধান ইস্যু কী?
রাজধানীর হাসপাতাল-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন