হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রের পানিতে আইফোনের বাক্স ও দামি সুগন্ধির বোতক ভাসতে দেখা যাচ্ছে এমন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব পণ্যের সবগুলো ডুবে যাওয়া জাহাজের কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পণ্য হারানোর আর্থিক ক্ষতি ১০ কোটি ডলার বলে যে দাবি ছড়িয়েছে, তার পক্ষেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ জিএফএস প্রাইড (GFS Pride) গত ১৩ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে জাহাজটিতে আগুন ধরে এবং এটি ডুবে যায়। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ আহত হননি।
জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪টি স্ট্যান্ডার্ড কনটেইনার। তবে ডুবে যাওয়ার সময় এতে ঠিক কতটি কনটেইনার ছিল, সেগুলোতে কী পণ্য ছিল এবং মোট কত টাকার মালামাল হারিয়েছে এসব তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
আইফোন ও পারফিউমের ভিডিও কতটা সত্য?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পানিতে ভাসমান বাক্স ও সুগন্ধির প্যাকেট এবং ছোট নৌকায় থাকা লোকজনকে সেগুলো সংগ্রহ করতে দেখা যায়। কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো আইফোনের নতুন মডেল ও বিলাসবহুল পারফিউম, যা ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, প্রচারিত ভিডিওগুলোর স্থান, সময় এবং জিএফএস প্রাইডের সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। জাহাজটির প্রকৃত পণ্যতালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা বাক্সগুলো জাহাজটিরই পণ্য, কিংবা সেগুলোর ভেতরে আইফোন রয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
এ ছাড়া ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা ফ্যাক্টনামেহ জানিয়েছে, আইফোন উদ্ধারের নামে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। এসব দৃশ্যে নড়াচড়ার অস্বাভাবিকতা, বাক্সের আকৃতি ও লেখার অসংগতি দেখা গেছে। তাদের পর্যালোচনায় ডুবে যাওয়া জাহাজে আইফোনের চালান ছিল এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
১০ কোটি ডলারের ক্ষতি নিশ্চিত তথ্য নেই
জাহাজটিতে হাজার হাজার কনটেইনার বহনের সক্ষমতা থাকলেও ধারণক্ষমতা আর বাস্তবে বহন করা পণ্যের পরিমাণ এক নয়। কোনো জাহাজে কত পণ্য ছিল, সেগুলোর ধরন ও মূল্য কত এবং কতটুকু উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এসব তথ্য ছাড়া মোট আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করা যায় না।
সামুদ্রিক দুর্ঘটনা ও বিমা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকারী ডব্লিউ কে ওয়েবস্টার জানিয়েছে, জিএফএস প্রাইডের পণ্যসম্ভারের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ এবং ভাসমান কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও অবস্থা তখনো নিশ্চিত হয়নি। তাই ১০ কোটি ডলারের ক্ষতির অঙ্ককে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
জাহাজডুবির কারণ নিয়েও মতভেদ
জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়েও ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের দাবি, জাহাজটি অনুমোদিত পথ থেকে সরে গিয়ে সমুদ্রের মাইনে আঘাত করেছিল।
এ ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সংঘাতের মধ্যে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পণ্য পরিবহন, বিমা ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থায় ঝুঁকি বাড়ছে।
জাহাজডুবির ঘটনায় নাবিকদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা গেলেও পণ্যসম্ভারের প্রকৃত ক্ষতি কতটা, তা জানতে আনুষ্ঠানিক পণ্যতালিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল, ডব্লিউ কে ওয়েবস্টার, ফ্যাক্টনামেহ।
'নিজস্ব প্রযুক্তিতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ইরানের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার প্রমাণ'
নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইরান
৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বেলুচিস্তান