আফ্রিকার দেশ সুদানে চলমান যুদ্ধে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া এ সংঘাত চতুর্থ বছরে গড়ালেও বন্ধ হয়নি লড়াই। জাতিসংঘের হিসাবে, যুদ্ধের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হচ্ছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি) অন্তত ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো যিনি হেমেদতি নামেও পরিচিত এর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
আরএসএফকে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ক্রমে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। এরপর থেকে রাজধানী খার্তুমসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে লড়াই, বাস্তুচ্যুতি ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে হেমেদতিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এ রায়ের পরও সংঘাত থামেনি।
জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছরে সুদানে ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন। এদের মধ্যে ১ কোটি ৭৩ লাখ শিশু।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে শিশুরা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে কৃষিকাজ, খাদ্য সরবরাহ, বাজারব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় বহু পরিবারের পক্ষে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়, নিরাপদ পানি ও চিকিৎসার সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো সুদানের পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করছে। তবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা এবং চলমান সংঘাতের কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনের পূর্ণ হিসাব পাওয়া কঠিন।
সুদানের মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মানবিক যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া এবং দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে চীন ও রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং অস্ত্র সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদে মতপার্থক্য রয়েছে।
মানবিক সহায়তা বাড়ানো, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের পক্ষগুলোকে আলোচনায় আনাকে সুদানের সংকট মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ত্রাণসংশ্লিষ্টরা।
যুদ্ধের অবসান না হলে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যসংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোটি মানুষের জরুরি সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে সুদানে টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্পের সমর্থন নামলো ৩১ শতাংশে
পারস্য উপসাগরে ৪০টির বেশি জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা