মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এখনো দুই সপ্তাহ সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণের চেষ্টা করতে পারেন তিনি। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সমর্থকেরা।
সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্রমেই এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের আসন হারালে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল ঘটতে পারে। পরাজয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজতে পারেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে তার প্রশাসন ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন আরও অনেকে।
এই উদ্বেগের কারণে একসময় নিজেদের মধ্যে দৃঢ় ঐক্যের জন্য পরিচিত হোয়াইট হাউস আবারও ট্রাম্প শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও পরস্পরের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ শেষ দিনগুলোতে সেখানে ক্ষমতার দখল নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং আগেভাগেই অন্যের ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতা বেড়েছে। ট্রাম্পের এক মিত্র বলেন, ‘আধুনিক সময়ে হোয়াইট হাউসে এমন পরিস্থিতি আর কখনো দেখা যায়নি। এখানকার কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।’
প্রশাসনের ভেতরে এবং ট্রাম্পের বৃহত্তর রাজনৈতিক বলয়ে এই নজিরবিহীন টানাপোড়েন গত দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে এসেছে। এতে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে। পাশাপাশি নিজের চারপাশের উপদেষ্টাদের নিয়ে ট্রাম্পের হতাশাও বেড়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ট্রাম্প গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে বরখাস্ত করেন। তিনি ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাবেক বাগ্দত্তা। এক রিপাবলিকান দাতার প্রকাশ করা তথ্যসহ কয়েকটি ক্ষতিকর প্রতিবেদন সামনে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই দাতার দাবি, নিজের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য গিলফয়েল তার কাছে এক লাখ ডলার চেয়েছিলেন।
এ ছাড়া কেনেডি সেন্টারের জন্য বরাদ্দ করা লাখ লাখ ডলার যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র আলিনা হাবা মিলডন ও রিক গ্রেনেলের মধ্যে চলমান বিরোধ খতিয়ে দেখতে হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক প্রধানকে নির্দেশ দেন ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে অ্যাক্সিওস এ তদন্তের খবর প্রকাশ করে। অন্যদিকে, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকেও বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। দায়িত্ব পালনে একাধিক ভুল এবং তার কাজের ধরন নিয়ে প্রায় সর্বজনীন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও তার পারফরম্যান্সে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
এসব সংকটের মধ্যেই ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীও চাপের মুখে পড়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং বাইরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা জেমস ব্লেয়ার ও ক্রিস লাসিভিটা। তাদের নিয়ে প্রকাশিত সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ে তাদের অবস্থান কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের সমর্থকেরা পাল্টা দাবি করেছেন, এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পেছনে রয়েছেন এমন কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী, যারা ট্রাম্পের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চান। গত সপ্তাহে জেমস ব্লেয়ার দুবার ট্রাম্পের সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করেছেন। এটিকে প্রেসিডেন্টের নিজের মূল উপদেষ্টা দলের ওপর আস্থা বজায় থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বলেন, ‘জেমস বা ক্রিসকে লক্ষ্য করে চালানো আঘাতের উদ্দেশ্য আসলে সুসিকে আঘাত করা।’ ঘটনার পরম্পরায় ট্রাম্প শিবিরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে কে কার বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস করছেন এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে খারাপ ফল হলে ট্রাম্পের আশপাশের কার ওপর দায় চাপানো হবে, কোন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হবে এবং কতজন সহযোগী প্রশাসন ছেড়ে চলে যাবেন, তা নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছে।
ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট দুটিই হারাই, তাহলে কী ঘটবে, তা সত্যিই বলা কঠিন। তখন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ তবে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গেল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ মনোযোগ এখন নভেম্বরে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার দিকে। এ কারণেই তিনি দেশজুড়ে সফর করছেন এবং মার্কিন জনগণের জন্য তার প্রশাসনের ঐতিহাসিক অর্জনগুলো তুলে ধরছেন।’
সুসি ওয়াইলসকে ঘিরেও জল্পনা
প্রশাসনের অভ্যন্তরে ক্ষমতা নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় সুসি ওয়াইলসকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে। ট্রাম্প যখন কেটি জাকারিয়াকে প্রেস সেক্রেটারি পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেন, তখন ওয়াইলস সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, এ তথ্য সামনে আসার পর তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ট্রাম্পের দুই উপদেষ্টার মতে, কেউ কেউ ঘটনাটিকে ওয়াইলসের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। একই সঙ্গে তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ হিসেবেও বিষয়টি বিবেচনা করেছেন কেউ কেউ। হোয়াইট হাউসে ব্যাপক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে তার এই পদে।
কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই এবং হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্তির সময় ঘনিয়ে আসায় ওয়াইলসের পদত্যাগের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে হোয়াইট হাউসের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ওয়াইলস এখন পর্যন্ত দায়িত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেননি। সম্প্রতি ট্রাম্পও তার প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি তাকে চিফ অব স্টাফের পদ থেকে সরানোর ‘শূন্য সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াইলস সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি কোথাও যাচ্ছেন না।’ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে চারজন চিফ অব স্টাফ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাদের কেউই দুই বছর এই পদে ছিলেন না।
নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারে মন্ত্রিসভার ভবিষ্যৎ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে পারে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের ভবিষ্যৎও। নতুন করে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ডেমোক্র্যাটদের কয়েক মাসের তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে কয়েকজন মন্ত্রিসভা সদস্য নিজেরাই পদ ছাড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। তাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দায়িত্ব হারানোর আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে টেলিভিশনে উপস্থিতির উপযোগী আগ্রাসী বক্তব্যের জন্য পরিচিত এই মন্ত্রীর প্রতি ট্রাম্প বারবার সমর্থন জানিয়েছেন।
জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা আলোচনা করছেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে সৃষ্ট কিছু গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব সামলানোর দায়িত্ব রয়েছে তার ওপর। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধিক লাভজনক চাকরি নিতে তিনি প্রশাসন ছাড়তে পারেন বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, হেগসেথ ‘ভুয়া খবর বা ওয়াশিংটনের অর্থহীন কথাবার্তা’ নিয়ে চিন্তিত নন। জ্বালানি দপ্তরের একজন মুখপাত্রও রাইটের প্রশাসন ছাড়ার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট যত দিন তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য চাইবেন, তত দিন তিনি পদে থাকবেন।
এদিকে নির্বাচনের পর ট্রাম্প কিংবা তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কায় রয়েছেন প্রশাসনের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) প্রধান জয় ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, বরখাস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিও থাকতে পারেন। তার প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুদানের অর্থ ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হোয়াইট হাউসের বাজেটপ্রধান রাস ভটের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এনআইএইচ। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এনআইএইচ এবং ভটের দপ্তরের মধ্যে কাজের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প ও তার দল এখন কেবল মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েই মনোযোগ দিচ্ছেন। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন প্রশাসনে কিছু রদবদল ঘটে। এই নির্বাচন অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার জন্য স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদের শেষ দুই বছরের জন্য নীতিগত অগ্রাধিকার নতুন করে নির্ধারণ করতে পারেন।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনে ক্ষমতার প্রধান মাপকাঠি হলো প্রেসিডেন্টের কতটা কাছাকাছি থাকা। এখানে আনুগত্যের সমীকরণও প্রতিনিয়ত বদলায়। ফলে নতুন কোনো পদ শূন্য হলে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের নীতিগত কর্মসূচির গতিপথও বদলে যেতে পারে। ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন কয়েকজন ব্যক্তির মতে, নির্বাচনের পর প্রশাসনে রদবদল আনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো ইঙ্গিত দেননি প্রেসিডেন্ট। রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সাম্প্রতিক দেশজুড়ে সফর দলটির কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
তবে ট্রাম্পের অনেক সহযোগী ও উপদেষ্টা এখনো নির্বাচনের ফল নিয়ে হতাশ। তাদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা সম্ভবত আর হবে না। এখন তাদের মূল লক্ষ্য বড় ধরনের পরাজয় এড়ানো এবং আসন হারানোর সংখ্যা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা। অন্যদিকে, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মধ্যে এখনো আশাবাদ রয়েছে। তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ এবং সিনেটে কয়েকটি দুর্বল নির্বাচনী প্রচারণা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন করে তুলেছে বলে মনে করছেন তারা।
ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টও ব্যক্তিগত আলোচনায় কখনো কখনো এই চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেছেন। রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি এত প্রতিকূল কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে দলটির নির্বাচনী কৌশল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ওই ব্যক্তিরা আরও জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়লে ট্রাম্প কাউকে না কাউকে দায়ী করবেন; তবে সেই দায় নিজের কাঁধে নেবেন না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ট্রাম্প আক্ষেপ করে বলেন, ‘যে কারণেই হোক, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল সব সময়ই হারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি আমার ভোটারদের মাগা রিপাবলিকান, কিংবা তাদের যে নামই দেওয়া হোক—ভোটকেন্দ্রে আনতে পারি, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জিতব। কিন্তু তাদের ভোট দিতে আসার আগ্রহ থাকতে হবে। আর আপনি নিজে যখন ব্যালটে থাকেন না, তখন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা কিছুটা কঠিন।’
সূত্র: সিএনএন