ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে চলতি মাসের শুরুতে তাঁর সেই পরিকল্পনায় আপত্তি জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনের শিরোনামে। তবে সরবরাহ করা মূল লেখাটিতে হামলার পরিকল্পনা কিংবা ট্রাম্পের আপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ নেই।
এদিকে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই ভোট দিতে শুরু করেছেন দেশটির সেনাসদস্যরা। দুর্গম এলাকায় এবং ইসরায়েলের সীমান্তের বাইরের সামরিক অবস্থানে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, দেশটির ভেতরে ও সীমান্তের বাইরে প্রায় ৮৫০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ওই দিনই সাধারণ ভোটারদের জন্য জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার সেনাসদস্য ভোটকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের বেশির ভাগই তরুণ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় নিয়োজিত সেনা। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
দশ হাজারের বেশি সেনাসদস্য সামরিক ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট দেওয়ার যোগ্য। তবে ঠিক কতজন ভোট দেবেন, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ২৫ শতাংশ ভ্রাম্যমাণ। দুর্গম এলাকায় থাকা সেনা ও রিজার্ভ সদস্যদের কাছে ভোটের সুযোগ পৌঁছে দিতে এসব কেন্দ্র একাধিক সামরিক ইউনিটে ঘুরে ঘুরে ভোট নেবে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় তাদের ৪০টি সামরিক অবস্থান, লেবাননে বিভিন্ন সেনা অবস্থান এবং সিরিয়ায় নয়টি সামরিক অবস্থানে ভ্রাম্যমাণ ভোটকেন্দ্রের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এসব কেন্দ্র বিভিন্ন ইউনিটে যাবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে একজন সশস্ত্র কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে থাকবেন। স্থানান্তরের সময় ব্যালট বাক্সগুলো তালাবদ্ধ রাখা হবে।
সামরিক বাহিনীর নির্বাচনী কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা কর্নেল ভেরেদ বেন ইয়েহুদা বলেন, সীমান্তের বাইরে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধের দায়িত্ব পালন করলেও প্রত্যেক সেনাসদস্যের গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে আইডিএফ।
সেনাসদস্যরা ২৭ অক্টোবর সাধারণ ভোটকেন্দ্রেও ভোট দিতে পারবেন। তবে কেউ যাতে একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন, সে জন্য মাঠপর্যায়ের সামরিক ভোটকেন্দ্রে বিশেষ খামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এসব খামের মাধ্যমে ভোটারের নাম তাঁর নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্রের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এতে একজন সেনাসদস্যের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে সেনাদের ভোটগ্রহণের এই ব্যবস্থা দেশটির সামরিক বাহিনীর বিস্তৃত কার্যক্রমের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছে। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার মতো এলাকায় সেনা মোতায়েন থাকায় ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রচলিত ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রও ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা এবং ট্রাম্পের আপত্তির বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং পরিকল্পিত হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য বা সময়সূচি সরবরাহ করা হয়নি। তাই অতিরিক্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া ঘটনাটির পটভূমি বা পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করা উচিত: ইরানি এমপি
মদিনার দিকে ছোড়া ৪ ড্রোন ভূপাতিত
হরমুজের ইন্টারনেট ক্যাবল কীভাবে ধ্বংস করতে পারে ইরান, কতটা বাস্তব?