ভারতের স্টেট ব্যাংকে সাইবার হামলা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের দাবি করেছে ‘সিরিউসিম’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। ব্যাংকটিও গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ব্যক্তিগত বিবরণ, ঋণের আবেদন, অ্যাকাউন্ট খোলার নথি ও আবেদনসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য থাকার কথা বলা হচ্ছে। তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কীভাবে তথ্যগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এসবিআই জানায়, তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ব্যাংকটি আরও বলেছে, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ও অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী ‘সাইবারপালস৫৬’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট গত ১৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য ফাঁসের দাবি প্রকাশ করে। তাদের দাবি, এসবিআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার তথ্য বিভিন্নভাবে বাইরে চলে গেছে। তবে এই সংখ্যা পৃথক গ্রাহকের সংখ্যা নির্দেশ করে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একই গ্রাহকের একাধিক নথি এই তথ্যসমষ্টিতে থাকতে পারে।

ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত বিবরণ, আবাসিক ঠিকানা, ঋণের আবেদন, সহায়ক নথি এবং আবেদনসংক্রান্ত অন্যান্য রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। হ্যাকার গোষ্ঠী ‘সিরিউসিম’ এসব তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে তথ্যগুলোর উৎস এবং সেগুলো সরাসরি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা থেকে চুরি করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, এসব তথ্য অপব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি, ভুয়া ঋণের আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করা হতে পারে। তবে এমন অপব্যবহার ইতিমধ্যে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্য ফাঁসের প্রকৃত ব্যাপ্তি ও এর উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত প্রয়োজন।

কেন উদ্বেগের বিষয়

গ্রাহকসংখ্যার দিক থেকে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক। ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে এ ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের ঘটনা বড় পরিসরে ঘটলে তা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ব্যাংকটির বিপুল গ্রাহকভিত্তির কারণে তথ্যের অপব্যবহার হলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আর্থিক ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন