বুরকিনা ফাসোতে ফিরলো মৃত্যুদণ্ড, স্থগিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করেছে সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনসভা। অন্যদিকে, নতুন বিধিমালা প্রণয়নের আগপর্যন্ত দেশজুড়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা আয়োজন স্থগিত রেখেছে সরকার। জাতীয় নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার যুক্তিতে নেওয়া এই দুই সিদ্ধান্ত ঘিরে মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গত ২০ অক্টোবর বুরকিনা ফাসোর ৭১ সদস্যের আইনসভা সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দণ্ডবিধি অনুমোদন করে। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে বিলুপ্ত হওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিধান আবার ফিরিয়ে আনা হলো।

নতুন বিধান অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির কারণে মৃত্যু ঘটানোর মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটির বিচার ও মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী এদাসো রদ্রিগে বায়ালা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, আগের আইনে শাস্তি তুলনামূলক কম থাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সুবিধা পেত।

২০১৮ সালে বুরকিনা ফাসোতে সাধারণ অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সর্বশেষ জানা বিচারিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৮৮ সালে।

মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের কয়েক মাস আগে, গত ৮ জুন দেশটির যোগাযোগ, সংস্কৃতি, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

সরকারের ভাষ্য, নতুন বিধিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিযোগিতার অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিযোগিতাগুলো যেন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতীয় পরিচয়, নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিকল্প হিসেবে নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহ দিতে ‘হাকিলি মুসো’ নামে একটি জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে ৮৪ জন তরুণী গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে অংশ নেন। মেধাবীদের পুরস্কার ও শিক্ষাসহায়তাও দেওয়া হয়।

তবে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতাটিকে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিতের সরাসরি বিকল্প হিসেবে সরকার ঘোষণা করেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, সামরিক সরকারের সমালোচক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে এই শাস্তির অপব্যবহার হতে পারে। দেশটির বিচারব্যবস্থায় ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বুরকিনা ফাসো সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে রয়েছে। দেশটি আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিদ্রোহেরও মুখে রয়েছে। নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে।

মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতি এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ধরন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাকে সামনে এনেছে। তবে সিদ্ধান্ত দুটি পৃথক সময়ে এবং ভিন্ন যুক্তিতে নেওয়া হয়েছে; সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিতের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত