ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাবদিহির মুখে ফেলবে কংগ্রেস

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি ও জবাবদিহির চাপ বাড়তে পারে। যুদ্ধের উদ্দেশ্য, অগ্রগতি, ব্যয় এবং এর সমাপ্তির পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।

রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যামি ফ্রেডেরিকসনের মতে- ইরান থেকে বেরিয়ে আসার একটি কৌশল নির্ধারণ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস থেকে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করেই প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারেন।

ফ্রেডেরিকসন বলেন, এখন পর্যন্ত ইরানে সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। অথচ কংগ্রেসের দায়িত্ব হচ্ছে মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা এবং সরকারের সামরিক পদক্ষেপের ওপর নজরদারি করা। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ আমেরিকানই পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান দেখতে চান না বা সমর্থন করেন না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পেছনে এটিও একটি যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিল মার্কিন প্রশাসন।

তবে তার অভিযোগ, যুদ্ধ শুরুর পর প্রশাসন বারবার জানিয়েছে, সংঘাত শিগগিরই শেষ হবে। কিন্তু মাসের পর মাস পার হলেও যুদ্ধ চলতে থাকায় প্রশাসনের বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফ্রেডেরিকসনের ভাষায়, ‘আমাদের বারবার এমন কিছু বলা হয়েছে, যা সত্য ছিল না।’ তিনি মনে করেন, সরকারের সামরিক পদক্ষেপের তদারকি করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলাই কংগ্রেসের দায়িত্ব। তার বক্তব্য, এখন ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সেই দায়িত্ব পালন করবেন।

ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ

নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। যুদ্ধের লক্ষ্য কী, সামরিক অভিযানে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কতটা এবং সংঘাত শেষ করার বাস্তব পরিকল্পনা কী এসব বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে প্রশাসনের আগের বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য থাকলে তা কংগ্রেসের শুনানি ও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন তোলার অর্থ এই নয় যে তারা সবাই যুদ্ধের বিরোধিতা করবেন। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি, সময়সীমা, ব্যয় এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিয়ে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আর শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি বা সামরিক কৌশলের বিষয় থাকছে না; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জবাবদিহিরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

জেএম
আরও পড়ুন