মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি আরও বাড়ালো ইরান। এখন থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই নয়, বরং তাদের মিত্র দেশগুলোর কোনো জাহাজও এই প্রণালি দিয়ে পার হতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালি এখন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং এটি সব ধরণের ‘শত্রু জাহাজ’ চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, শুক্রবার তিনটি ভিন্ন দেশের মালবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইরানি নৌবাহিনীর কড়া বাধা এবং হুঁশিয়ারির মুখে জাহাজগুলো তাদের গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। আইআরজিসি স্পষ্ট করে বলেছে, যারা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যারা সমর্থন দিচ্ছে বা তাদের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত, তাদের কোনো বন্দরেই জাহাজ আসা-যাওয়া করতে পারবে না। এসব দেশের জাহাজগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলপথটি এখন থেকে পুরোপুরি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ হিসেবে গণ্য হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে এই পথ বন্ধ রাখে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবেই ইরান এই ‘বড় চাল’ চালল বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
এবার হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করার হুমকি আইআরজিসির
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বাদে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত: আরাঘচি
