মেক্সিকোর পিরামিডে কানাডিয়ান পর্যটককে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

মেক্সিকোর বিশ্বখ্যাত প্রাচীন পিরামিড নগরী তেওতিহুয়াকানে (Teotihuacan) এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় এক কানাডিয়ান নারী পর্যটক নিহত হয়েছেন। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই হামলায় কলম্বিয়া ও রাশিয়ার নাগরিকসহ আরও বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছেন।

নিহত কানাডিয়ান নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। তিনি জানান, হামলায় আরও এক কানাডীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। বর্তমানে মেক্সিকোতে অবস্থিত কানাডার দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা প্রদান করছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্রিটিশ দম্পতি বিবিসিকে জানান, পিরামিডের কাছে ছবি তোলার সময় হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করে এবং চারদিকে কান্নার রোল পড়ে যায়। পর্যটকদের অভিযোগ, বিশ্বখ্যাত এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। প্রবেশপথে কোনো মেটাল ডিটেক্টর বা তল্লাশি ছিল না। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ধারালো অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘তেওতিহুয়াকানে আজ যা ঘটেছে, তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।’ দেশটির প্রশাসন দ্রুত পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান তেওতিহুয়াকান এবং অ্যাজটেক সভ্যতার স্মৃতিচিহ্ন দেখতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক মেক্সিকোতে ভিড় করেন। এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মেক্সিকো ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রায় ৫৫ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক মেক্সিকো ভ্রমণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এই নিরাপত্তা বিপর্যয় এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

 

NB
আরও পড়ুন