ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী।
এই আন্দোলনকে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মূলত ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং জনঅসন্তোষ থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। গত বছর ইরানি রিয়ালের মান ব্যাপক পতনের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে অর্থনৈতিক দাবির গণ্ডি পেরিয়ে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের স্লোগান দিচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আট সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাহেদানে মিছিলে গুলি চললে বেশ কয়েকজন আহত হন। রাজধানী তেহরানসহ শিরাজেও ব্যাপক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সামনে নতি স্বীকার করবে না। তিনি এই অস্থিরতার জন্য তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউটর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নাশকতা সৃষ্টিকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এদিকে বিক্ষোভের তথ্য দমনে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেটব্লকসের তথ্যমতে, বর্তমানে কানেক্টিভিটি স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার ফল ভয়াবহ হবে।
ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি আয়াতুল্লাহ খামেনির
ইরানে কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দিলো বিক্ষোভকারীরা
