ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবে বিস্ফোরণ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও প্রকম্পিত হয়ে উঠলো ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবসহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘বেন গুরিয়ন’-এ সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।

ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ২১তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এবারের অভিযানে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলকে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইরানের অত্যাধুনিক ‘খেইবার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একঝাঁক আত্মঘাতী ড্রোন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম) মরিয়া চেষ্টা চালায়। আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে মাঝপথে বাধা দেওয়ার সময় পুরো তেল আবিব শহরজুড়ে নজিরবিহীন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার পরপরই শহরজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাঙ্কারে ছোটছুটি শুরু করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ও কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শনিবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের গত সাত দিনে মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের হামলায় মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ (শ্র্যাপনেল) পড়ে অন্তত একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ‘খেইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রের এই নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানার ক্ষমতা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

FJ
আরও পড়ুন