বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম

দেশের কর ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা আনতে আসন্ন জাতীয় বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত একটি পাঁচ বছর মেয়াদি কর রোডম্যাপ ঘোষণা করা হতে পারে।

সরকারের এই পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে -

অর্থবছরভিত্তিক করমুক্ত আয়ের প্রস্তাবিত সীমা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে তিন ধাপে করমুক্ত আয়ের সীমায় পরিবর্তন আসতে পারে:

  • ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছর: করদাতাদের জন্য বর্তমানের বিদ্যমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার করমুক্ত আয়ের সীমাটিই বহাল থাকবে।
  • ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছর: পরবর্তী দুই বছর এই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হতে পারে।
  • ২০৩০-৩১ অর্থবছর: রোডম্যাপের চূড়ান্ত বছরে করমুক্ত আয়ের এই সীমা সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
  •  

 এই উদ্যোগের ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে -

  • পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: এই উদ্যোগের ফলে করদাতারা তাদের ভবিষ্যৎ করের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আগে থেকেই একটি স্পষ্ট ধারণা পাবেন, যা কর ব্যবস্থার সামগ্রিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য করবে।
  • প্রস্তুতির সুবিধা: এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগের সাবেক সদস্য ডক্টর সৈয়দ মো. আমিনুল করিম এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই করমুক্ত সীমা ঘোষণা করা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এর ফলে করদাতারা আগে থেকেই মানসিক ও আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

কর বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জসমূহ

সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও কর বিশেষজ্ঞরা কিছু বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন:

  • মূল্যস্ফীতির অপর্যাপ্ত প্রতিফলন: বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) যে বাস্তব প্রভাব, তার প্রতিফলন প্রস্তাবিত এই নতুন করসীমায় পর্যাপ্তভাবে দেখা যাচ্ছে না।
  • ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাসের ঝুঁকি: আয়কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া সতর্ক করেছেন যে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত করের ধাপগুলো অপরিবর্তিত বা লক করে রাখলে- দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে নাগরিকদের প্রকৃত সম্পদ বা আয় না বাড়লেও তারা উচ্চতর করের ধাপে চলে যেতে পারেন। এতে মানুষের পকেটে থাকা ব্যয়যোগ্য আয় (Disposable Income) কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • মধ্যম আয়ের ওপর চাপ: অন্যান্য স্ল্যাব বা ধাপগুলো পরিবর্তন না করে কেবল প্রাথমিক করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ালে তা মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর অন্যায় ও বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে।
  • আন্তর্জাতিক চর্চার সাথে অমিল: বৈশ্বিক সেরা চর্চা বা আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত করের এই সময়সীমা ২ বা ৩ বছরের মধ্যে সীমিত রাখা হয় এবং প্রতি বছর এর সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যস্ফীতিকে সমন্বয় করা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ করদাতাদের এক ধরণের নিশ্চয়তা দেবে এবং কর ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনবে। তবে রাজস্ব সুরক্ষার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সমস্ত আয়ের ধাপের সাথেই মূল্যস্ফীতি-সংশ্লিষ্ট সমন্বয় রাখা উচিত।

SN
আরও পড়ুন