এবার কাতারের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’ লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি ও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রফতানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস-টু-লিকুইডস (GTL) স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ‘পার্ল জিটিএল’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৭টায় এক বিবৃতিতে জানায়, রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে লাগা আগুন নেভাতে জরুরি পরিষেবা সংস্থার সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি কেবল কাতারের অর্থনীতির ফুসফুস নয়, এটি বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিশ্বের মোট গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ এই কেন্দ্র থেকেই সম্পন্ন হয়। এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি সরবরাহে বড় ধরণের ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা, যার প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারেও।
কাতার এনার্জি জানিয়েছে, তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে। তবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
কাতার সরকার এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরণের হামলা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
জ্বালানি সংকটে দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়ান তেলে নজর
জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা চরমে
