ইরান যুদ্ধের উত্তাপে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি ও উত্তেজনার প্রভাবে সোমবার (২৩ মার্চ) ধস নেমেছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে। বিশেষ করে টোকিও এবং সিউলের বাজারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে।

সোমবার সকালের লেনদেনে জাপানের বেঞ্চমার্ক সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ ৩.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কসপি’ সূচকে বড় ধরণের পতনে প্রায় ৫ শতাংশ নিচে নেমেছে। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং ২.৫ শতাংশ এবং তাইওয়ানের ওয়েটেড ইনডেক্স ২ শতাংশ কমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি আমদানির জন্য পুরোপুরি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত শনিবার রাতে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘যদি ইরান আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শর্ত ছাড়াই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট (বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেবে এবং বড় কেন্দ্রটি দিয়েই এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হবে।’

এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিমোনা এবং আরাদ শহরে আঘাত হানলে ট্রাম্প এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ জানিয়েছেন, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হলে এর ফল হবে ভয়াবহ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জ্বালানি ও পানি শোধন অবকাঠামোগুলো এমনভাবে ধ্বংস করা হবে যা আর কখনো মেরামত করা সম্ভব হবে না।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) প্রধান ফাতিহ বিরল সোমবার এক অনুষ্ঠানে সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি একসঙ্গে দুটি তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকটের সমান।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে অবস্থান করছে।

NB/
আরও পড়ুন