ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বড় কোপ এবার বিশ্বজুড়ে বিমান ভাড়ায়

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জেট ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) দাম। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে গত দুই মাসেই এই জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিমান ভাড়া এবং অন্যান্য মাশুল বড় আকারে বৃদ্ধির চূড়ান্ত পূর্বাভাস দিয়েছে বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো।

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেট্রোল বা ডিজেলের চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে জেট ফুয়েলের দাম। ইতোমধ্যে গ্রীষ্মকালীন অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের টিকিট ১০ শতাংশ পর্যন্ত দামী হয়ে গেছে। তবে আগামী কয়েক মাসে এই খরচ আরও লাগামহীন হতে পারে।

ভ্রমণ বুকিং সাইট ‘হপার’এর প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যালি বার্গ জানান, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সস্তা ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে সামনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য কম দামে টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ‘ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স’-এর সিইও স্কট কিরবি জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বর্তমান অবস্থায় থাকলে এ বছর তাদের অতিরিক্ত ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। উল্লেখ্য, তাদের ইতিহাসের সেরা বছরেও মুনাফা ছিল ৫ বিলিয়ন ডলারের কম। অন্যদিকে ‘ডেল্টা এয়ারলাইন্স’ জানিয়েছে, গত বছর মার্চের তুলনায় এ বছরের মার্চে তাদের কেবল জ্বালানি খরচই বেড়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার।

সরাসরি ভাড়ায় চাপ না দিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো এখন অন্য উপায়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কৌশল নিচ্ছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং জেটব্লু ইতোমধ্যেই তাদের ব্যাগেজ ফি (মালামাল পরিবহনের খরচ) ১০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যান্য বড় সংস্থাও একই পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স আগামী ছয় মাসে তাদের মোট ফ্লাইটের সক্ষমতা ৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গল, বুধ ও শনিবারের মতো দিনগুলো যেখানে সস্তায় টিকিট পাওয়া যেত, সেই ফ্লাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ থেকে ১৭৫ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।

মজার বিষয় হলো, ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাড়লেও বিমানের টিকিটের চাহিদা কমছে না বরং বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হলো সড়কপথে ব্যবহৃত পেট্রোলের দামও এখন আকাশচুম্বী। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে চড়া দামে বিমানে যাওয়াকেই সাশ্রয়ী মনে করছেন যাত্রীরা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও বিমানের ভাড়া দ্রুত কমবে না। কারণ একবার ভাড়া বাড়লে তা পুনরায় আগের অবস্থায় ফেরার নজির এভিয়েশন ইতিহাসে খুব একটা নেই।

NB
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত