ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছানোর মধ্যেই জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ছাড়ের জোর দাবি তুলেছে তেহরান। এই অর্থকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই এই ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনার অগ্রগতি এখন পুরোপুরি থেমে গেছে এবং পরিস্থিতি অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। তার মতে, এই অচলাবস্থা ভাঙার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত ইরানি সম্পদ দ্রুত ছাড় করা। চুক্তি হলে এর একটি অংশ আগে এবং বাকিটা পরবর্তীতে ছাড়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
রেজাই দাবি করেন, এই অর্থ ইরানের নিজস্ব সম্পদ এবং এটি ফিরিয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ বিষয়। তার ভাষায়, এটি এমন একটি সুযোগ যা আমেরিকাকে প্রমাণ করতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা বাড়লে ইরান শুধু পারস্য উপসাগরেই নয়, এর বাইরেও সামরিক প্রতিক্রিয়া বিস্তৃত করতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তিনি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান নিজেকে বিজয়ী হিসেবে দেখছে।
সব মিলিয়ে, জব্দ অর্থ ইস্যু এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: সিএনএন
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের