ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টানা অষ্টম দিনের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে বাহরাইনও একাধিক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে।

কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় হামলাকে ‘জঘন্য ইরানি আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ হামলা প্রতিহত করেছে।

ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রোববার (১৯ জুলাই) কুয়েতে চালানো হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত ক্যাম্প আল-আদিরির গোলাবারুদ গুদাম এবং আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছেন।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘ইরান ও মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে রক্ষায় আমাদের সেনারা দৃঢ় ও অবিচল থাকবে।’

এদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান জর্ডানের আকাবা শহরের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ সময় জর্ডানের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, জর্ডান ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করেছে।

এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হরমোজগান ও খুজেস্তান প্রদেশ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

রোববার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থাও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন