'চিকিৎসা ও ওষুধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানিদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বিশ্ব আধিপত্যবাদ'

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

ইরানসহ স্বাধীনচেতা ও প্রতিরোধী জাতিগুলোর ওপর অবিচার ও দুর্ভোগ চাপিয়ে দিতে বিশ্ব আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর অশুভ চক্র কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। এমনকি চিকিৎসাসেবা ও ওষুধপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরানের জনগণের কষ্ট বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় নার্স দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতনি হজরত জয়নাবের জন্মবার্ষিকীতে প্রতিবছর ইরানে দিবসটি পালিত হয়। তাঁর জীবন, বিশেষ করে আশুরার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা, মমতা, ধৈর্য, সাহস ও অবিচলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাসের শুরু থেকেই হজরত জয়নাবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশটির নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের তৃতীয় পবিত্র প্রতিরক্ষা হিসেবে বর্ণিত যুদ্ধে দেশজুড়ে যে নজিরবিহীন জনসমাবেশ ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে, তাতে নারীদের উপস্থিতি ব্যাপকতা ও গুরুত্ব, উভয় দিক থেকেই বিশেষ মাত্রা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শহর থেকে গ্রাম, বিভিন্ন জায়গায় ইরানি নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরা এবং সম্মুখসারির পেছনে থেকে প্রতিরোধের চেতনা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মোজতবা খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি জাতির ওপর দুর্ভোগ, যন্ত্রণা ও দমন-পীড়ন চাপিয়ে দিতে চাওয়া শক্তিগুলো জনগণের এই ব্যাপক অংশগ্রহণের মোকাবিলা করতে পারছে না।

জাতীয় নার্স দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মোজতবা খামেনি বলেন, হজরত জয়নাবের জন্মদিনকে নার্স দিবস হিসেবে নির্ধারণ যথার্থ হয়েছে। কারণ, অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি তাঁর মমতা, যন্ত্রণাকাতর মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং তাঁদের সেবায় আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত নার্সিং পেশার মানবিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এসব নৈতিক গুণ ও মানবিক মূল্যবোধ পরিশ্রমী নার্সদের মধ্যেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ত্রাণকর্মীদের মতো নার্সরাও মানুষের মনে আশা জাগিয়ে তোলেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করেন। অসুস্থতা ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের পাশে থেকে নার্সরা যে সেবা দেন, তা রোগীদের মানসিক প্রশান্তি, সুস্থতার প্রত্যাশা এবং চিকিৎসার প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, ‘একজন নার্সকে কখনো কখনো করুণার দূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর তা তখনই, যখন যন্ত্রণা ও কষ্টে থাকা মানুষের বিরক্তি ও অধৈর্য্যের মুখেও তাঁরা রোগীর মনে প্রশান্তি, আশা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে ঐশী করুণাও নেমে আসে।’

মোজতবা খামেনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের কাজের সঙ্গে নার্সদের দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। চিকিৎসকদের মতো নার্সদেরও চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও রোগীর পাশে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে ধৈর্য ও মমতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের বিশেষভাবে পালন করতে হয়। এই অবিচ্ছিন্ন উপস্থিতি শুধু শারীরিক পরিচর্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং রোগীর মানসিক ও আবেগগত কষ্ট লাঘবেও সহায়তা করে। অনেক ক্ষেত্রে তা হতাশা থেকে মানুষকে দূরে রাখে। তাঁর ভাষায়, ‘এভাবে চিকিৎসকদের সামর্থ্যের বাইরে থাকা কিছু কাজও নার্সদের এই মমতাপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।’

বিশ্ব আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে মোজতবা খামেনি বলেন, স্বাধীন ও প্রতিরোধী জাতিগুলোর, বিশেষ করে ইরানের জনগণের ওপর নানা ধরনের অবিচার ও অপরাধ চাপিয়ে দিতে এই অশুভ শক্তিগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপও ইরানিদের দুর্ভোগ বাড়ানোর এমন প্রচেষ্টার অংশ।

এ পরিস্থিতিতে নার্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা এবং তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা, সামর্থ্য, মনোবল, কর্মপ্রেরণা ও মর্যাদা সংরক্ষণ এবং আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মোজতবা খামেনির মতে, এসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন সমাজের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি নয়, এমন জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের নিয়োজিত করা নার্সদের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নার্সদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো, তাঁদের সক্ষমতা ও মনোবল অটুট রাখা এবং পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার ভিত্তিতেই এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন