বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের হুঁশিয়ারি আইআরজিসি'র

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। তাঁর দাবি, আগের সংঘাতের তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা দেড় গুণ বেড়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।

মোহেবির ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতা হারিয়েছে এবং বেশ কিছু সামরিক জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে। ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হিসাব-নিকাশের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপের পরিণতি ওয়াশিংটন-এর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে।

ইরানের এই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারকে সম্মত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করেছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ওমানের কাছ দিয়ে বিকল্প নৌপথ তৈরির উদ্যোগ ওই সমঝোতার শর্তের পরিপন্থী। মোহেবির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপই উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ইরানকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি অস্ত্র উৎপাদনও অব্যাহত রয়েছে। মোহেবির ভাষ্য, ইরানের হাতে থাকা সব সক্ষমতা এখনো ব্যবহার করা হয়নি; আরও গুরুতর পরিস্থিতির জন্য কিছু অস্ত্র ও সামরিক সামর্থ্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

ইরানের সামরিক কাঠামো সম্পর্কে মোহেবি বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কিংবা কোনো জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হলেও বাহিনীর কার্যক্রম থেমে থাকে না। এ ব্যবস্থাকে তিনি ইরানের ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানি সেনাদের মনোবল উঁচু রয়েছে এবং প্রচণ্ড গরমের মতো প্রতিকূল পরিবেশেও তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

মোহেবি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তাঁর মতে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দেশগুলোর নিজস্ব উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে আইআরজিসির পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ তুলে মোহেবি বলেন, যুদ্ধ থেকে মূলত মার্কিন অভিজাত ও পুঁজিপতিরা লাভবান হন; সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইরানি বা ইরাকি জনগণের শত্রুতা থাকার কথা নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার অর্থনৈতিক ও জ্বালানিসংক্রান্ত পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকেও ভোগ করতে হতে পারে।

তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বক্তব্যের এসব দাবি মোহেবির সাক্ষাৎকারভিত্তিক; সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন