মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে মুসলিম প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ বলে আক্রমণ ট্রাম্পের

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এল-সাইয়েদ সিনেটর নির্বাচিত হলে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তাকেই প্রতিদিন মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা করাতে হবে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (২৫ অক্টোবর) এই বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

মিশিগানের পোর্ট হুরনে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প এল-সাইয়েদকে লক্ষ্য করে মুসলিমবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করেন। এমনকি মুসলিম চিকিৎসক এল-সাইয়েদ সিনেটর নির্বাচিত হলে বড়দিনও বাতিল হয়ে যেতে পারে, এমন মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে অন্য সিনেটরদের মতো নয়, তাকেই প্রতিদিন মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এল-সাইয়েদের জন্য তিনি মেটাল ডিটেক্টর চান।

সমাবেশে ট্রাম্প আরও বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য এক ‘জিহাদি মুসলিমকে’ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়া থেকে ঠেকাতেই তিনি সেখানে এসেছেন। তবে এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নাগরিক এবং জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।

এর আগে নিজের বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যকে ‘মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, এসব বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগ দিতে চান তিনি।

সিনেট নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে এই আসনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে রিপাবলিকানরা। বর্তমানে ১০০ সদস্যের সিনেটে দলটির আসন ৫৩টি। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচার থেকে ট্রাম্প রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে বারবার মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ব্যবহার করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক নির্বাহী আদেশে একাধিক মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা পরে স্বল্পস্থায়ী হয়।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং এর ফলে দেশটিতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রেস টিভি

এএস
আরও পড়ুন