নির্বাচনের পর হেবরন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে ইসরায়েল

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, শহরটিতে চলমান সামরিক অভিযান কার্যত উদ্দেশ্য হারিয়েছে। উল্টো এ তৎপরতা স্থানীয় উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং সেনা অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর সামরিক প্রতিবেদক আমির বোহবটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হেবরনে পরিচালিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য আসেনি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় অস্ত্র কিংবা সন্দেহভাজন হামলাকারীদের খুঁজে না পাওয়ায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের তৎপরতা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং অনুরূপ হামলার পাল্টা ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাঁদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচনের পর সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এদিকে, হেবরনে অভিযান অব্যাহত রাখা নিয়ে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির, সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ এবং ৯৮তম ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেনি লিবার্টির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

বিরোধের মূল বিষয় হলো, হেবরনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে কি না। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

হেবরন অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। সেখানে সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কারণ হয়ে আছে। নির্বাচনের পর সেনা প্রত্যাহার করা হলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী পরিবর্তন আসে, তা নির্ভর করবে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট

এটিটিআর
আরও পড়ুন