চীন-পাকিস্তান সীমান্তে গ্রিন চ্যানেল চালু

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

কৃষিপণ্য ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করতে সস্ত-খুনজেরাব সীমান্তে গ্রিন চ্যানেল চালুর চুক্তি করেছে পাকিস্তান ও চীন। এর আওতায় নির্ধারিত তালিকার কৃষিপণ্য দ্রুত শুল্ক প্রক্রিয়াকরণ ও পরীক্ষার সুযোগ পাবে। এতে সীমান্তে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউতে (এফবিআর) দুই দেশের শুল্ক প্রশাসনের মধ্যে অনলাইনে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শুল্ক বিভাগের (অপারেশনস) সদস্য সৈয়দ শাকিল শাহ। অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন উরুমকি কাস্টমসের উপপ্রধান এবং তাশকুরগান কাস্টমসের পরিচালক লি ছিংহুয়া।

পাকিস্তানের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় দুই দেশের সম্মত তালিকাভুক্ত কৃষিপণ্য গ্রিন চ্যানেলের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুল্ক প্রক্রিয়াকরণ ও পরীক্ষা করা হবে। তবে পণ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রচলিত শুল্ক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও বহাল থাকবে।

চুক্তিতে দুই দেশের শুল্ক প্রশাসনের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং ঝুঁকিসংক্রান্ত সতর্কবার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তসীমান্ত বাণিজ্য আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাস ও পরিবহনের জন্য সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলে পেশোয়ারের প্রধান শুল্ক কালেক্টর, গিলগিট-বালটিস্তানের শুল্ক কালেক্টর এবং উদ্ভিদ সুরক্ষা বিভাগ, এনএএফএসএ, পাকিস্তান সিঙ্গেল উইন্ডো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। চীনে নিযুক্ত পাকিস্তান দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলরও এতে অংশ নেন।

সস্ত-খুনজেরাব সীমান্তপথটি পাকিস্তানের গিলগিট-বালটিস্তানের সঙ্গে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলকে যুক্ত করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত খুনজেরাব পাস বিশ্বের সর্বোচ্চ পাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তপথ। ১৯৮৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সীমান্ত প্রটোকল অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ পথ দিয়ে যাতায়াত ও বাণিজ্য চলে। শীতকালে অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর খুনজেরাব সীমান্ত দিয়ে চীন থেকে পণ্য আমদানিতে ১৫০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি রাজস্ব আদায় করেছে পাকিস্তান কাস্টমস, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। একই পথে চীন ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে ২৮০ কোটি রুপির পণ্য রপ্তানি করা হয়। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত