ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের আলোচনায় বিরোধী জোটের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদকে ছাড়া কোনো সরকারে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে শাস পার্টি। দলটির নেতা আরিয়ে দেরি স্পষ্ট করেছেন, লিকুদকে বাদ দিয়ে নাফতালি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেবে না তার দল। অন্যদিকে, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির অতি-ধর্মীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ২৬তম নেসেট নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে অতি-ধর্মীয় দল দুটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শাস ও ইউটিজের মধ্যে এ বিষয়ে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইউটিজে বিরোধী জোটের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও শাস জানিয়েছে, লিকুদ ছাড়া এমন কোনো সরকারে তারা অংশ নেবে না।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, দেরি ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ের আলোচনায় আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন। সূত্রগুলোর ভাষ্য, অসলো চুক্তির অভিজ্ঞতার পর শাস আবারও বামপন্থীদের সঙ্গে সরকারে বসে জনসমালোচনার মুখে পড়তে চায় না। ডানপন্থী সরকার গঠন সম্ভব না হলে জাতীয় ঐক্যের সরকারে অংশ নিতে পারে দলটি, তবে সে সরকারে লিকুদকে থাকতে হবে।
অন্যদিকে, মারান রশ ইয়েশিভা রাব্বি ডভ লান্দাউ ডেগেল হা তোরাহর আইনপ্রণেতাদের বিরোধী জোটের সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে এ বিষয়ে তার বক্তব্য প্রকাশ করেন ইসরায়েলি সাংবাদিক ইশায় কোহেন। লান্দাউ বলেন, তারা কারও জোটের অংশ নন; তারা তোরাহভিত্তিক ধর্মীয় সমাজের জোটের অংশ।
নির্বাচনের ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, বিরোধী জোটের আসন ৪৮টি এবং আরব দলগুলোর আসন ১৯টি।
বিরোধী জোটের প্রধান তিন দল ইয়াশার, বি'ইয়াচাদ ও ডেমোক্র্যাটসের সম্মিলিত আসন ৪১টি। তাদের সঙ্গে ইউটিজের সাতজন আইনপ্রণেতা যুক্ত হলে আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৪৮-এ। অর্থাৎ সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তখনও ১৩ আসন পিছিয়ে থাকবে তারা। এই তিন দলের সঙ্গে শাস ও ইউটিজে, দুই অতি-ধর্মীয় দলই যুক্ত হলে আসনসংখ্যা হবে ৫৪, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সাতটি কম।
তবে ইসরায়েল বেইতেনুর নেতৃত্বাধীন পুরো বিরোধী জোটের সঙ্গে শাস ও ইউটিজে যুক্ত হলে আসনসংখ্যা ঠিক ৬১-তে পৌঁছাবে। কিন্তু ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, লিকুদ ছাড়া আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে রাজি নন দেরি। ফলে এই সমীকরণ আপাতত কেবল কাগজে-কলমেই সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো, আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে রা'আমকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিরোধী জোটের তিন দল, ইউটিজে ও রা'আম একসঙ্গে হলে আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৫৬। এর সঙ্গে জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন যুক্ত হলে তা ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে। তবে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দলগুলোর মধ্যে এ ধরনের সমঝোতা করতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের জন্য আস্থাভোটে সব সময় ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন হয় না। পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যের সংখ্যা বিপক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যদের চেয়ে বেশি হলেই প্রস্তাব পাস হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ৫৬ জন আইনপ্রণেতা কোনো সরকারকে সমর্থন করলে এবং জয়েন্ট লিস্টের ১১ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকলে, বাকি ৫৩ জন বিপক্ষে ভোট দিলেও ৫৬-৫৩ ব্যবধানে সরকার আস্থাভোটে জয়ী হতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের তিন দল ও ইউটিজেকে নিয়ে ৪৮ আসনের সরকার গঠন করতে হলে অন্তত আরও ২৫ জন আইনপ্রণেতাকে ভোটদানে বিরত থাকতে হবে অথবা অনুপস্থিত থাকতে হবে, যদি বাকি সবাই বিপক্ষে ভোট দেন। নেতানিয়াহুর জোটেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরও আটটি আসন প্রয়োজন। সংখ্যার হিসাবে রা'আমের আটটি আসনই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নতুন সরকার গঠনের আলোচনায় আরেকটি বড় বাধা সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন। অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে তারা সতর্কভাবে আশাবাদী। তবে তা নির্ভর করবে বিরোধী নেতারা কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তার ওপর।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, আইজেনকট ও তার সহযোগীদের প্রধান লক্ষ্য যদি সরকার পরিবর্তন এবং নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গাভির ও বেজালেল স্মোট্রিচকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়, তাহলে সামরিক নিয়োগ আইন নিয়ে সমঝোতার পথ বের করা সম্ভব হতে পারে। তা না হলে নতুন সরকার গঠন কঠিন হবে। শেষ পর্যন্ত কোন বিষয়টি তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা বিরোধী জোটের নেতাদেরই ঠিক করতে হবে।
সব মিলিয়ে ইউটিজেকে সম্ভাব্য আলোচনাসঙ্গী হিসেবে পাওয়া গেলেও শাসের অনড় অবস্থান লিকুদকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথ সংকুচিত করেছে। ইউটিজের সঙ্গে সামরিক নিয়োগ আইন নিয়ে সমঝোতা হলেও শুধু তাতেই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসবে না। আস্থাভোটে জয়ী হতে বিরোধী জোটকে আরও সমর্থন আদায় করতে হবে অথবা অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
ইসরায়েলে ‘ইসলামায়নের চেষ্টা’ চলছে: লিকুদ পার্টি
ফ্রান্সে ইসরায়েলি অস্ত্রে বিধিনিষেধ আরোপ
‘আপনি অত্যন্ত বাজে এক লোক, রয়টার্স জিনিসটাই জঘন্য’ কটাক্ষ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় ইরানের গোপন সামরিক সরবরাহ নেটওয়ার্ক