নেতার জীবনযাপন জনগণের মতো হওয়া উচিত: আহমেদিনেজাদ

আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ১১:৩০ এএম

বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর এবং সম্পদশালী একটি দেশের দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্বেচ্ছায় মেষ পালন করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাপ্য ভাতা (প্রতি মাসে) তিনি গ্রহণ না করে দান করে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতায় ফিরে যান। তখন তার মাসিক বেতন ছিলো বর্তমান সময়ে আনুমানিক ২৫০ ডলার! এর বাইরে আর কোন আর্থিক সুবিধা পেতেন না, যেহেতু তিনি অস্থায়ী শিক্ষক ছিলেন। 

যার কথা বলা হচ্ছে তিনি ইরানের দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। ব্যক্তি জীবনে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর সেই ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। ডক্টরেট করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাফিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিংয়ে। দেশের নগর জীবনের উন্নয়নের জন্য রাজধানীর মেয়র হন। এরপর ব্যাক টু ব্যাক দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়ে দেশের মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় বিপ্লব ঘটান তিনি। পরমাণু এবং ধাতব শিল্পে তার দেশ এখন এক্সাম্পল। 

একেবারেই সাদামাটা জীবনযাপন: এই ব্যক্তি কোথাও কাজে বা বেড়াতে গেলে সবচেয়ে কমদামি হোটেলের সস্তা রুমে উঠেন। খাট পালঙ্ক ছাড়া রুমে থাকার চেষ্টা করেন। কারণ তার বিশ্বাস যত কম ভোগ বিলাস করবেন তত কম হিসেব দিতে হবে পরকালে! চলাচল করেন বাসে, কারণ টাকার জন্য তার ব্যক্তিগত পিউজিয়ট গাড়িটি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তার স্ত্রী একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। দুই ছেলে এক মেয়ে। সন্তানদের তিনি কোন রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে দেননি।

পরপর দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সুবাধে তিনি চাইলেই, তার দেশের আইনানুযায়ী বৈধভাবে, তার অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক অনেক উন্নতি করতে পারতেন। তার দেশের আইনে প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য এই টুকু ছাড় জনগণের সম্মতি নিয়েই করা হয়েছে। তবুও তিনি সেটা নেননি। 

এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন ‘একজন নেতার জীবনযাপন এমন হওয়া যেমন তার জনগণ যাপন করেন।’ 

ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ খরচ: তিনি তার পুরোনো বাড়িটি পুনর্নিমাণ করেছেন। তবে বাড়িটি পুনর্নিমাণের জন্য তিনি ব্যাংক ও প্রেসিডেন্ট দপ্তরের ফান্ড থেকে ঋণ নেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ফান্ড ও ব্যাংক থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য অসংখ্য মানুষ ঋণ নিয়েছেন। প্রেসিডেন্টও সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে সেই ঋণ নিয়েছেন। ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোন ধরনের প্রভাব খাটাননি।

একইসঙ্গে বাড়ি পুনর্নিমাণের ক্ষেত্রে তার স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরাও সহযোগিতা করেছেন। পুনর্নিমিত দুই তলা ভবনে চারটি ফ্লাট রয়েছে। ওই ভবনেই তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করবেন। যে জমিতে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটার আয়তন মাত্র ১৭৫ বর্গমিটার। জমিটুকু বাবার কাছ থেকে পাওয়া। লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া।

AHA/FI
আরও পড়ুন