ইইউ বৈঠকের আগে রাশিয়ার সাথে কী আলাপ করেন হাঙ্গেরির মন্ত্রী?

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় বৈঠকের আগে এবং পরে নিয়মিতভাবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভের সাথে যোগাযোগ করার কথা স্বীকার করেছেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো। ক্রেমলিনের সাথে হাঙ্গেরির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যখন ইউরোপজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, তখন তার এই অকপট স্বীকারোক্তি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

হাঙ্গেরির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেসথেলিতে এক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে সিজার্তো এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে তিনি একে তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ব্লকের বাইরের দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই এই বিষয়গুলো আমাদের অংশীদারদের সাথে আলোচনা করা জরুরি। আমি কেবল রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেই কথা বলি না, বরং ইইউ কাউন্সিলের বৈঠকের আগে ও পরে আমেরিকান, তুর্কি, ইসরায়েলি এবং সার্বিয়ান নেতাদের সাথেও যোগাযোগ করি।’

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সিজার্তো ইইউ বৈঠকের ভেতরে থাকা অবস্থাতেও ল্যাভরভের সাথে কথা বলেন। তবে সিজার্তো এই দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বা মিথ্যা খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি কোনো নিরাপত্তা প্রোটোকল বা নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।

সিজার্তোর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ব্রাসেলসের কর্মকর্তারা। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর যেখানে ইইউ কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে, সেখানে হাঙ্গেরির এই ‘পর্দার আড়ালে’ যোগাযোগকে ভালোভাবে দেখছে না অন্য সদস্য দেশগুলো। বুধবার কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকের তথ্য অন্য দেশকে জানানো ‘চরম উদ্বেগজনক’।

ইইউ-র অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনাগুলো অত্যন্ত গোপনীয় থাকে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ‘পারস্পরিক বিশ্বাস’ এবং ‘অকপট সহযোগিতা’র ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভূমিকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্যে বড় ধরণের ফাটল ধরাতে পারে।

DR/AHA
আরও পড়ুন