যুক্তরাষ্ট্রে মারাত্মক রক্ত সংকট তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে 'সংকটকাল' (Crisis) ঘোষণা করেছে আমেরিকান রেড ক্রস। সংস্থার ১৫০ বছরের ইতিহাসে এর আগে কেবল একবারই রক্তের মজুদ এতটা আশঙ্কাজনক মাত্রায় নেমে এসেছিল।
আমেরিকান রেড ক্রসের কর্মকর্তা ড. কোর্টনি লরেন্স জানান, সাম্প্রতিক তীব্র তাপদাহ ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে এই সংকটময় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কেবল গত মাসেই দেশটির রক্তের মজুদ এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ কমে গেছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনা ও বাইরে চলাচলের কারণে আহতের সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালে রক্তের চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মোট সংগৃহীত রক্তের প্রায় ৪০ শতাংশই সরবরাহ করে রেড ক্রস। সংস্থাটি জানায়, বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় বর্তমানে তাদের দৈনিক প্রায় ৩,৫০০ ইউনিট বেশি রক্ত সরবরাহ করতে হচ্ছে। রক্ত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ (সর্বোচ্চ ৪২ দিন) পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় বলে আগে থেকে অনেক বেশি মজুদ করে রাখার সুযোগ থাকে না। ফলে সংস্থাটিকে এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নপর্যায়ে থাকা ইনভেন্টরি থেকে রক্ত সরবরাহ করতে হচ্ছে।
সব গ্রুপের রক্তের সংকট থাকলেও বিশেষ করে 'ও পজিটিভ' (O Positive) গ্রুপের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারণ জরুরি চিকিৎসায় রোগীর রক্তের গ্রুপ জানা না থাকলে সর্বজনীনভাবে এটিই ব্যবহার করা হয়। রেড ক্রস জানিয়েছে, পর্যাপ্ত রক্তের মজুদ না থাকায় হাসপাতালগুলো এখন অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিতে কিংবা রোগীদের অন্য ট্রমা সেন্টারে পাঠাতে বাধ্য হতে পারে।
এই ঘাটতির পেছনে অতিরিক্ত তাপদাহ, দাবানল এবং সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া পরিপাকতন্ত্র সংক্রান্ত রোগ 'সাইক্লোস্পোরিয়াসিস' (Cyclosporiasis)-কে দায়ী করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কোভিডের বিশ্বমারী ও তীব্র শীতের সময় রেড ক্রস প্রথমবার রক্তের সংকটকাল ঘোষণা করেছিল।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ কানাডাতেও জুন মাসের পর থেকে রক্তের সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে 'কানাডিয়ান ব্লাড সার্ভিসেস'। তবে দেশটিতে রক্তদানের হার এভাবে অস্বাভাবিক কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। সূত্র: বিবিসি
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, সতর্ক পোল্যান্ড
আর্জেন্টিনায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৭ জনের
ইরানে ফের 'শক্তিশালী' হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র