ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে তাড়াহুড়ো নেই ট্রাম্পের

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগের একটি গোপন চ্যানেল তৈরি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়া তার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ফক্স নিউজের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। ট্রাম্প বলেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। যুদ্ধের অবসান নিয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না বলেও স্পষ্ট করেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা সোমবার শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও দুই দেশের অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। উভয় পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধ এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার পথ এখনো অনিশ্চিত।

ইসলামাবাদ সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে ইরানও ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওই সময়সীমা আলোচনার জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা লঙ্ঘন করায় সেটি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।

এদিকে সোমবার ইরানের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ড্রোন উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, ড্রোন দুটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে আঘাত হানে। হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্চে একটি সামরিক অভিযানের পর নিখোঁজ তিন পাইলটের বিষয়টিও সামনে এনেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরান ধারণা করছে ওই তিন পাইলটকে আটক করে রাখা হয়েছে।

নিখোঁজ পাইলটদের অবস্থান জানতে ইরান আইনি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছেন বাঘাই। কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও এ বিষয়ে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না তেহরান।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেও পার্থক্য রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা বন্ধ হয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা। ট্রাম্প অবশ্য আলোচনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ অবস্থায় আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি গোপন যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করার ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে তাঁর অনাগ্রহ এবং ইরানের কঠোর অবস্থান চলমান সংকটের সমাধানকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তাই যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা সামনে আসেনি। দুই পক্ষের মূল বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, সামরিক অবস্থান এবং চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ।

Attr/AHA
আরও পড়ুন