চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে যুদ্ধবিমান এফ-১৬ভি কিনলো তাইওয়ান

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি তাইওয়ানে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পূর্ব তাইওয়ানের তাইতুং জেলার চিহহাং বিমানঘাঁটিতে বিমান দুটি অবতরণ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২০১৯ সালে কেনা ৬৬টি নতুন F-16V Block 70 যুদ্ধবিমানের মধ্যে এগুলোই প্রথম সরবরাহ করা বিমান। প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় সরবরাহে কয়েক বছর বিলম্ব হয়েছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানিয়েছেন, বছরের শেষ নাগাদ আরও এফ-১৬ভি দেশটির বহরে যুক্ত হবে। তবে ঠিক কতগুলো বিমান এ সময়ের মধ্যে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি F-16V যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয়। চুক্তিটির মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। নতুন বিমানগুলো যুক্ত হলে তাইওয়ানের এফ-১৬ বহরের সংখ্যা ২০০ ছাড়াবে।

F-16V Block 70 সংস্করণে উন্নত অ্যাভিওনিকস, রাডার ও অস্ত্রব্যবস্থা রয়েছে। বিমানগুলোতে AN/APG-83 AESA রাডারসহ আধুনিক সেন্সর ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত ও অনুসরণে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তৈরি।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন বিমানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের সামরিক বিমানবাহিনীর নিয়মিত তৎপরতার মধ্যে তাইওয়ানকে প্রায় প্রতিদিনই নিজস্ব যুদ্ধবিমান নিয়ে নজরদারি ও প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযান পরিচালনা করতে হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

নতুন এফ-১৬ভি সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। কিন্তু বিমানগুলোর নতুন প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সংযোজনসহ বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে সময়সূচি পিছিয়ে যায়। প্রথম দুটি বিমানও কয়েক সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে অবস্থান করার পর তাইওয়ানে পৌঁছেছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরবরাহ বিলম্ব নিয়ে আলোচনা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি জানিয়েছিল। এসব ব্যবস্থার মধ্যে অতিরিক্ত খুচরা যন্ত্রাংশ বা ওয়ারেন্টির মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয় থাকতে পারে।

তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয়। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপটির কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে। নতুন এফ-১৬ভি সরবরাহের ক্ষেত্রেও চীনের আপত্তি রয়েছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বন্ধু ও অংশীদারদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন এফ-১৬ভি তাইওয়ানের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ালেও চীনের বিশাল ও দ্রুত আধুনিকায়নশীল বিমানবাহিনীর সঙ্গে সামরিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি আরও বিস্তৃত। বিশেষ করে চীনের J-20-এর মতো স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং বড় আকারের বিমানবাহিনীর বিপরীতে তাইওয়ান কীভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সাজায়, সেটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রথম দুটি বিমান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৬৬টি এফ-১৬ভি সরবরাহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। তবে পুরো বহর তাইওয়ানের হাতে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত