ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তিন প্রভাবশালী দেশ- সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদী এক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি করছে। কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) কাতার সফরে গিয়ে দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন জেলেনস্কি। এর আগে তিনি রিয়াদে গিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গেও একই ধরণের চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। খুব শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এই চুক্তির প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে আধুনিক অস্ত্র। আমরা দুষ্প্রাপ্য সম্পদের আদান-প্রদান এবং যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। ইউক্রেন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে যৌথভাবে সামরিক কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত চার বছর ধরে রাশিয়ার ড্রোন ও বিমান হামলা প্রতিহত করার যে বিশাল অভিজ্ঞতা ইউক্রেন অর্জন করেছে, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের আকাশপথ সুরক্ষিত রাখতে ইউক্রেনের ‘ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার’ প্রযুক্তির ওপর ভরসা করছে আরব দেশগুলো। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের সেনারা ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি হামলা মোকাবিলায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে মনোনিবেশ করায় ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতার নতুন বলয় তৈরি করছেন। একদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম- এই দুই সংকট মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চুক্তিও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা কেবল ড্রোনের কথা বলছি না, আমাদের অভিজ্ঞ সৈনিকরাই এখন সামরিক বিশেষজ্ঞ। যদি কোনো দেশ ইউক্রেনের সঙ্গে উচ্চমানের সম্পর্ক চায়, তবে আমাদের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।’
রাশিয়ায় ২৮০টির অধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন
মার্কিন ঘাঁটি রক্ষায় জর্ডানে ড্রোন বিশেষজ্ঞ পাঠালো ইউক্রেন
