কেমব্রিজের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

কেমব্রিজের এক প্রভাবশালী একাডেমিককে ঘিরে জমে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। সাইমন গোল্ডহিল, গ্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রবীণ এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণের অভিযোগ তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

কিংস কলেজ-এর ভেতরের তদন্ত শেষ হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে তিনি আপাতত পাঠদান ও সব ধরনের লেকচার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনো নির্ধারণ করেনি কর্তৃপক্ষ, তবে বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের শরতে, কলেজের সিনিয়র কমন রুমে। অভিযোগ অনুযায়ী, গোল্ডহিল ওই শিক্ষার্থীকে জোর করে চুম্বন করেন, যা ছিল লালামিশ্রিত ও অপ্রত্যাশিত। একইসাথে তিনি ওই শিক্ষার্থীর শরীরে স্পর্শ করেন। এতে শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যাপক নিজেই স্বীকার করেছেন তার আচরণ ‘অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত’ ছিল, কিন্তু কোথাও তিনি দেখাতে পারেননি যে এর জন্য শিক্ষার্থীর সম্মতি ছিল।

ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন, এ তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তে। পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে বার্তা পাঠান, তবে সেটিও ছিল অসংলগ্ন। তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, অ্যালকোহল এই আচরণের পেছনে ভূমিকা রাখলেও তা কোনোভাবেই দায় কমায় না।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা ছিল দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তায় ভরা। তিনি জানান, নিজের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ আনতে পারেননি; অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়াও আশানুরূপ ছিল না, বরং তা তার পড়াশোনা ও আর্থিক অবস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। যৌন অসদাচরণ প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠন দ্য ১৭৫২ গ্রুপ-এর অ্যানা বুল সতর্ক করে বলেছেন, এটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে গোল্ডহিলের অবসরে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই ঘটনার পর তার ভবিষ্যৎ একাডেমিক মর্যাদা বিশেষ করে ‘ইমেরিটাস’ পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

AS/AHA
আরও পড়ুন