ইউক্রেনের দখলকৃত পূর্বাঞ্চলীয় একটি শহরের শিক্ষার্থী হোস্টেলে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করে এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। লোহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরের এই রাতের বেলা চালানো হামলায় ১০ জন নিহত, ৩৮ জন আহত এবং আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রুশ সমর্থিত গভর্নর।
তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা স্টারোবিলস্কে রাশিয়ার এলিট 'রুবিকন' ড্রোন সামরিক ইউনিটের সদর দপ্তরে আঘাত হেনেছে। তবে সেটি এই একই ভবন কি না, তা ইউক্রেন স্পষ্ট করেনি। ইউক্রেন আরও অভিযোগ করেছে, এই বিশেষ ড্রোন ইউনিটের যোদ্ধারা নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছিল।
মস্কোর ক্রেমলিন প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানে পুতিন ইউক্রেনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, "আশেপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা, গোয়েন্দা পরিষেবা বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর ছিল না।" তিনি জানান, ইউক্রেন তিনটি ধাপে মোট ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। পুতিন ইতিমধ্যেই রুশ সামরিক বাহিনীকে এর পাল্টা জবাব কীভাবে দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে "প্রস্তাব" তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ১৯ বছর বয়সী ডায়ানা শোভকুন নামের এক আহত শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার দেখানো হলেও, নিহতদের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে শনিবার ভোরে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর বন্দর নোভোরোসিস্কের একটি তেল ডিপোতে ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের সাধারণ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ড্রোন বিস্ফোরণে একটি জ্বালানি টার্মিনাল ও বেশ কিছু প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায় এবং এতে দুইজন আহত হন। এছাড়া আরও উত্তরের বন্দর নগরী আনাপাতেও ড্রোন হামলায় বেশ কিছু ব্যক্তিগত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির (FSB) সদর দপ্তরে সফল হামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলায় প্রায় ১০০ জন রুশ "দখলদার" নিহত বা আহত হয়েছে বলে তিনি জানান। মস্কোর সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, ক্রেমলিনপন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল সেখানে "হতাহতের" বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের নিয়মাবলি কঠোরভাবে মেনে কেবল সামরিক উদ্দেশ্য ব্যবহৃত অবকাঠামোতেই আঘাত হানছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইউক্রেন বারবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ এনেছে, যা মস্কো বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। গত সপ্তাহেই কিয়েভের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
ইরানে আবারও হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র