ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বাজেট ঘাটতি, সামরিক কার্যক্রম হুমকির মুখে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন সতর্ক করেছেন, বর্তমান প্রস্তাবিত অর্থায়ন যথেষ্ট না হলে ব্রিটিশ বাহিনীকে অভিযান ও প্রশিক্ষণ সীমিত করতে হবে। তিনি লর্ডস আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে বলেন, দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। এই অর্থই মহড়া ও অভিযান পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়, আর ঘাটতি হলে বাহিনীর প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়বে।

গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি পদত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ডিআইপি) বাহিনীর প্রস্তুতি কমিয়ে দেবে এবং অভিযানে থাকা কর্মীদের ঝুঁকি বাড়াবে। তার মতে, পরিকল্পনাটি ব্যয়ের বৃদ্ধিকে শেষের দিকে ঠেলে দিয়েছে, অথচ প্রথম দুই বছরেই যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি ছিল। হিলি সাংসদদের উদ্দেশে বলেন, তার পদত্যাগ দেশের স্বার্থে, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য নয়।

হিলির পদত্যাগের পর সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রী আল কার্নসও পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ডিআইপি প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ অপর্যাপ্ত এবং ড্রোন যুদ্ধের মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বরং পরিকল্পনাটি পুরনো প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

নতুন প্রতিরক্ষা সচিব ড্যান জার্ভিস বর্তমানে অর্থায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার ঘোষণা করেছেন, প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২.৩% থেকে বাড়িয়ে ২.৬% করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ডিআইপি যুক্তরাজ্যকে ভবিষ্যতের জন্য সক্ষমতা দেবে এবং ইতোমধ্যে অন্যান্য বিভাগ থেকে প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ পুনর্বন্টন করা হয়েছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এই বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। হিলি দাবি করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৩ শতাংশে পৌঁছানো জরুরি, কারণ তখন ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর অর্ধেকেরও বেশি এই মাত্রায় ব্যয় করবে। তিনি সতর্ক করেছেন, মিত্ররা ব্রিটিশ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে, আর বাজেট ঘাটতি যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে।

জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে আলোচনায় ব্রিটেনের অবস্থান নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নতুন প্রতিরক্ষা সচিবের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। তবে প্রতিরক্ষা প্রধান নাইটন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থ না পেলে মহড়া ও অভিযান কমিয়ে আনতে হবে।

এই সংকট ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা নীতি ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বাজেট ঘাটতি শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মিত্রদের আস্থাকেও প্রভাবিত করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাজ্য কি তার প্রতিশ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পথে দৃঢ়ভাবে এগোতে পারবে, নাকি অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাকে পিছিয়ে দেবে।

তথ্য সূত্র: বিবিসি

Attr/AHA
আরও পড়ুন