ইউরোপজুড়ে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের জন্য অনেকেই প্রশান্ত মহাসাগরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। তবে জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধারণা সঠিক নয়। তাদের মতে, বর্তমানে ইউরোপের তীব্র দাবদাহের পেছনে প্রধান কারণ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন, এল নিনো নয়।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এল নিনো এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি যে তা ইতোমধ্যে ইউরোপের আবহাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এল নিনো তৈরি হয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া সৃষ্টি করতে পারে, তবে এর প্রভাব প্রকাশ পেতে কিছুটা সময় লাগে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এল নিনোর সবচেয়ে বড় প্রভাব সাধারণত উত্তর গোলার্ধে শরৎ ও শীতকালে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালে নয়। ফলে বর্তমান ইউরোপীয় তাপপ্রবাহের সঙ্গে সরাসরি এল নিনোকে যুক্ত করার সুযোগ নেই।
বরং গবেষকদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘস্থায়ী, ঘনঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিজ্ঞানী ফ্রেড্রেরিখ অটো বলেন, ‘প্রতিবছরই আমাদের একই কথা বলতে হয়। হ্যাঁ, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। হ্যাঁ, এর জন্য আমরাই দায়ী। আর না, এর জন্য এল নিনো দায়ী নয়।’
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বর্তমানে গড়ে ওঠা শক্তিশালী এল নিনো ভবিষ্যতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সময়ের ব্যবধানে এটি আগামী বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তাদের মতে, ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ, যা মোকাবিলায় দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সূত্র: সিএনএন
তাপদাহে ইউরোপে বাড়ছে পানিতে ডুবে মৃত্যু
২০২২ এর চেয়েও বিপজ্জনক ব্রিটেনের তাবদাহ
ইউরোপের তাপপ্রবাহ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা