ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দেশটির ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিক ও তা’আল (Ta’al) পার্টির নেতা আহমাদ তিবি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আরব অধ্যুষিত তায়িবে শহরের একটি ভোটকেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। এ নির্বাচনে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট আপাতত আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে।
ইসরায়েলের এবারের নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরবর্তী যুদ্ধগুলোর প্রভাবের ওপর এক ধরনের গণরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের বিপরীতে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিরোধী শিবির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠনে একাধিক দলের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে কোনো জোটই এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। ফলে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং তারা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কী অবস্থান নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ফিলিস্তিনি পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত মনে করেন। দেশটির রাজনীতিতে আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ দমন, আবাসন, বৈষম্য এবং নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে আসছে।
আহমাদ তিবির তা’আল পার্টি আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টিও আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, আরব ভোটারদের উপস্থিতি ও দলগুলোর আসনসংখ্যা সরকার গঠনের হিসাব বদলে দিতে পারে।
আরব দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রচারণার আগে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি কয়েকটি আরব দল ও প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। ফলে দলগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায়।
তবে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব থাকলেও তাদের সঙ্গে জোট গঠনে প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোর অনীহা রয়েছে। এ কারণে নির্বাচনের পর তারা সরাসরি সরকারে যোগ দেবে, নাকি বাইরে থেকে কোনো জোটকে সমর্থন করবে—সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
আহমাদ তিবির ভোটদান নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অংশগ্রহণের একটি দৃশ্যমান ঘটনা। তবে ভোটের ফল প্রকাশ এবং দলগুলোর আসনসংখ্যা নিশ্চিত হওয়ার আগে সরকার গঠনের সমীকরণ চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়। নির্বাচনের পর জোট আলোচনা, আরব দলগুলোর অবস্থান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের হিসাবই নির্ধারণ করবে তারা ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের ওপর কতটা প্রভাব রাখতে পারবে।
আবার যুদ্ধ শুরু হলে, ‘বিশ্বকে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের এমপির’
ডানপন্থী ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান নেতানিয়াহুর