ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জার্মানির গ্যাস মজুত তলানিতে

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পিএম

শীত মৌসুমের আগে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির গ্যাস সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইনেস (আইএনইএস) বলেছে, ভূগর্ভস্থ গ্যাস ভাণ্ডার ও সংরক্ষণাগার পূরণের বিদ্যমান পদ্ধতি পর্যালোচনা করে উন্নত করতে হবে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জার্মানির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোতে মজুত ছিল মোট ধারণক্ষমতার ৬১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অথচ ১ নভেম্বরের মধ্যে মজুত ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল দেশটি। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মজুত প্রায় ১৯ শতাংশ কম রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শীতকালে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে জার্মান সরকার জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সংকট বা বাধা তৈরি হবে না।

ইনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেবাস্টিয়ান হাইনারম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “মজুতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা দেখিয়ে দিচ্ছে, আগামী শীত মৌসুমগুলোর জন্য গ্যাসের মজুত আরও কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, সরবরাহকারীদের ওপর গ্যাস মজুতের বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়টি জার্মানির অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে—এটি সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

গ্যাসের মজুত কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতিকে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রীষ্মকালে গ্যাস কিনে ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারগুলো পূর্ণ করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ছিল না এবং কাজটি কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব পরিস্থিতি ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানির গ্যাস মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

সূত্র: প্রদত্ত প্রতিবেদন

এমএজেড
আরও পড়ুন