বাংলাদেশ ছাড়াই কলকাতা বইমেলা শুরু, আক্ষেপ বইপ্রেমীদের

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২ এএম

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বাংলাদেশকে ছাড়াই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে কলকাতার সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের বইমেলায় প্রথমবারের মতো ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে অংশ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত ম্যারিয়ানো কাউসিনো, আর্জেন্টিনার খ্যাতিমান লেখক গুস্তাভো ক্যাঞ্জব্রে, সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, সুজিত বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যসহ বইমেলার আয়োজক সংস্থা কলকাতা বুকসেলার্স অ্যান্ড গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে ও সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জী। দেশ-বিদেশের বহু কবি, সাহিত্যিক ও গুণিজনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর বইমেলায় আর্জেন্টিনা, ব্রিটেন, জার্মানি, পেরু, কোস্টারিকা, ইউক্রেন, নেপালসহ প্রায় ২০টি দেশ অংশ নিয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বছরের মতো এবারও অনুপস্থিত বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর এবার মেলায় ফিরেছে চীনের প্যাভিলিয়ন।

দেশের বিভিন্ন রাজ্য— দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, আসাম, ওড়িশা ও ত্রিপুরার প্রকাশনা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি থাকছে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন, চিলড্রেনস প্যাভিলিয়নসহ নানা আয়োজন। বইমেলা চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন না থাকায় বইমেলা প্রাঙ্গণে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বহু বইপ্রেমী ও শিক্ষাবিদ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরিন্দম সরকার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের অনেক ভালো লেখকের বই থেকে পাঠকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষাবিদ অলোকনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিদেশি প্যাভিলিয়নের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল ছিল বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। তার অনুপস্থিতি বিস্ময়কর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের লেখকদের জ্ঞান ও চিন্তার সঙ্গে আদান–প্রদান না হলে শিক্ষার মনন সমৃদ্ধ হবে না।

বইপ্রেমী মনোজ বিশ্বাসের মতে, বাংলাদেশের অনুপস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। এতে বইমেলার একটি সমৃদ্ধ দিক হারিয়ে গেল।

বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে বলেন, গত বছর যেমন বাংলাদেশ আসতে পারেনি, এ বছরও আসতে পারেনি। এ বিষয়ে তারা খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। তিনি বলেন, বইয়ের কোনও সীমারেখা নেই, ভাষা ও সংস্কৃতির আদান–প্রদান চলতেই থাকা উচিত। আগামী বছর বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বইমেলা আমাদের আবেগ ও সংস্কৃতি। এই মেলা বিশ্বসাহিত্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ভারতের মধ্যে এক নম্বর এবং বিদেশেও জনপ্রিয়।’

তিনি বলেন, ‘বইয়ের কোনও ভৌগোলিক সীমা নেই। বই শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের চিরন্তন অবদান’। নিজের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেকে নিপীড়িত মানুষের একজন মনে করি। আমি খুব সাধারণ মানুষ।’

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তীকে ‘জীবনব্যাপী সাহিত্য সম্মান–২০২৬’ প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী তার হাতে দুই লাখ রুপির চেক ও সম্মাননা সামগ্রী তুলে দেন।

nr
আরও পড়ুন