কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কোম্পানিগুলো অনুমতি ছাড়া লেখকদের সৃজনশীল কাজ ব্যবহার করার প্রতিবাদে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন বিশ্বের খ্যাতনামা অন্তত ১০ হাজার লেখক। প্রতিবাদ হিসেবে তারা ‘ডোন্ট স্টিল দিস বুক’ (এই বইটি চুরি করবেন না) নামে একটি ‘খালি বই’ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) লন্ডন বুক ফেয়ারে এই বইটি বিতরণ করা হয়।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া লেখকদের মধ্যে রয়েছেন নোবেলজয়ী কাজুও ইশিগুরো, ফিলিপা গ্রেগরি, রিচার্ড ওসমান, মারিয়ান কিইস এবং ম্যালোরি ব্ল্যাকম্যানের মতো বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিকরা। বইটি আসলে কোনো গল্প বা প্রবন্ধের নয়; এর ভেতরে শুধু প্রতিবাদী ১০ হাজার লেখকের নামের তালিকা রয়েছে। তাদের দাবি, এআই কোম্পানিগুলো লেখকদের অনুমতি বা পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদের বই ব্যবহার করে চ্যাটবট ও অন্যান্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা সরাসরি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।
এই প্রচারণার আয়োজক ও সুরকার এড নিউটন-রেক্স বলেন, ‘এআই শিল্পটি মূলত চুরি করা কাজের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এটি কোনো নির্দোষ অপরাধ নয়; জেনারেটিভ এআই আসলে সেইসব মানুষের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করছে যাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি হয়েছে। এর ফলে লেখকরা তাদের জীবিকা হারাচ্ছেন।’
যুক্তরাজ্য সরকার আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে কপিরাইট আইনের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে একটি অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে। লেখকদের আশঙ্কা, নতুন আইনে এআই কোম্পানিগুলোকে অনুমতি ছাড়াই কপিরাইটযুক্ত কাজ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে এর আগে এলটন জন-সহ অনেক শিল্পীই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, লন্ডন বুক ফেয়ারে প্রকাশকরা ‘এআই লাইসেন্সিং’ উদ্যোগ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে এআই কোম্পানিগুলো আইনিভাবে লেখকদের কাজ ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যার বিনিময়ে লেখকরা ন্যায্য পাওনা পাবেন। গত বছর অ্যানথ্রোপিক নামক একটি এআই কোম্পানি লেখকদের কাজ বিনা অনুমতিতে ব্যবহারের দায়ে ১.৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছিল।
ওপেনএআইয়ে বিনিয়োগে ধীরগতি, বড় ঝুঁকির মুখে এআই খাত
কুরআন ব্যাখ্যায় এআই ব্যবহার করা যাবে কী?
