ব্ল্যাকমেইল ফাঁদে ফেলে গুপ্তচরবৃত্তি, পাকিস্তানে 'র' এজেন্ট গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাকে কাজে লাগানো হচ্ছিল বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি সামনে আসার পর গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম  ডন বলছে, রাওয়ালাকোটে ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’-এর এক সন্দেহভাজন এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) পুলিশ জানিয়েছে। তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ওই বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করানো হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

আজাদ কাশ্মীরের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) লিয়াকত আলি মালিক জানান, এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে ‘র’-এর হয়ে কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মালিক বলেন, ওই ব্যক্তির হ্যান্ডলার লাহোরের ঠিকানাযুক্ত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। শুরুতে তাকে ছোটখাটো কাজ দেয়া হয়, যেমন সাধারণ তথ্য আদান-প্রদান। পরে ধীরে ধীরে তাকে সংবেদনশীল কাজে যুক্ত করা হয়, যার মধ্যে জিওট্যাগিং, নির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট) শেয়ার করা এবং আজাদ কাশ্মীর ও পাকিস্তানের অন্যান্য স্থানে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা, স্কুল, সেতু ও অন্যান্য সরকারি ভবনের ভিডিও ধারণ করে পাঠানোর মতো কাজও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এবার আজাদ কাশ্মীরের পুলিশ সংবেদনশীল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পুরো নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করেছে’। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শত্রুপক্ষ নিরীহ তরুণদের ফাঁদে ফেলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি করছে।

পুলিশের তথ্যমতে, এই ধরনের ব্ল্যাকমেইলের কৌশলে প্রথমে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করা হয়। এরপর ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে চ্যাট, ব্যক্তিগত ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করা হয় এবং এগুলোই পরে ব্ল্যাকমেইলের কাজে ব্যবহৃত হয়।

শুরুতে ছোট পরিসরের কাজ দিলেও ধীরে ধীরে তা সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহের মতো কাজও করানো হয় বলে আইজিপি জানান। তিনি পুলিশের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এই পবিত্র ভূমি রক্ষায় তারা যেকোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত এবং শত্রুর ক্ষতিকর উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতেও তারা প্রস্তুত।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ অভিযোগ করেছিলেন, গত বছরের সামরিক সংঘাতে পরাজয়ের পর ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ পুনরুজ্জীবিত করতে প্রক্সি ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নয়াদিল্লি তাদের ‘আগ্রাসী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী’ নীতি পরিত্যাগ না করলে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পাঞ্জাবের কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) দাবি করেছিল, লাহোর, ফয়সালাবাদ ও বাহাওয়ালপুরে গোয়েন্দা অভিযানে ‘র’-এর হয়ে কাজ করা সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তারও আগে গত বছরের আগস্টে সিটিডি জানায়, তারা ‘র’-এর একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছে, যারা পাকিস্তানি নাগরিক ও সিন্ধুর একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে ব্যবহার করে বাদিন জেলার মাতলি এলাকায় এক পরিচিত সমাজকর্মীকে টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। সূত্র: ডন

AS/AHA
আরও পড়ুন