পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) লাক্কি মারওয়াত জেলায় এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একটি ব্যস্ত বাজারে রিকশার ভেতর লুকিয়ে রাখা বোমার এই বিস্ফোরণে দুই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৩ জন।
মঙ্গলবার (১২ মে) আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন লাক্কি মারওয়াত জেলার সরাই নৌরং শহরের প্রধান বাজারে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
লাক্কি মারওয়াত পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা একটি রিকশাকে চলন্ত বোমা হিসেবে ব্যবহার করে বাজারের জনাকীর্ণ স্থানে বিস্ফোরণ ঘটায়। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আদিল জান ও রাহাতুল্লাহ। তারা ওই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন।
স্থানীয় টিএইচকিউ (THQ) হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ ইসহাক জানান, এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্নু জেলার বড় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাজারের বেশ কিছু দোকানপাট ও কয়েকটি যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা গেছে। ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ উদ্ধার কাজ শুরু করে। নৌরং সার্কেলের ডিএসপির নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশাল দল এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা আলামত সংগ্রহ করছেন।
এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, এর পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-এর হাত থাকতে পারে।
২০২২ সালের শেষের দিকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাতিল করার পর থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে টিটিপি। গত মাসেই বান্নু জেলায় টিটিপি-র এক হামলায় ২১ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন। সূত্র: ডন, আলজাজিরা
পাকিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে গাড়ি বোমা হামলা, ১২ পুলিশ সদস্য নিহত