পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১২

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানের দারাজিন্দা তহসিলে পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৫ জন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আমান মেলা এলাকায় বিস্ফোরকভর্তি একটি যানবাহন চেকপোস্টে ধাক্কা দিলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ডেরা ইসমাইল খান অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মোবাশশির মাকেন প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা নিরাপত্তা সদস্য ছিলেন না। নিহতদের মধ্যে একজন শুল্ক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, অজ্ঞাত এক হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি ট্রাক্টর-ট্রলি নিয়ে চেকপোস্টে ধাক্কা দেয়। ডেরা ইসমাইল খানের জেলা পুলিশ কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ এটিকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ বলে নিশ্চিত করেছেন।

বিস্ফোরণে চেকপোস্টের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পাশের একটি বাড়িও পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শোনা যায় বলে স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বিস্ফোরণের পর সেখানে ব্যাপক গুলির শব্দও শোনা যায়।

মুগল কোট ও দারাজিন্দার কাছে ডেরা ইসমাইল খান-কোয়েটা সড়কের পাশে আমান মেলা চেকপোস্টটি অবস্থিত। ওই পথে নিরাপত্তা ও তল্লাশির কাজে চেকপোস্টটি ব্যবহার করে পুলিশ। এলাকাটি খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি।

আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা মাকেন জানান, আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। জেলা আবগারি কর্মকর্তা ফাহিম ওয়াজির জানান, চেকপোস্টে থাকা আবগারি বিভাগের সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন।

বিস্ফোরণের ধরন ও ঘটনাস্থল পরীক্ষা করতে সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশ কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও সদর এলাকার পুলিশ সুপার বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান তদারক করেন।

উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র জানান, তাদের দলগুলো ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে ওই এলাকায় মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্ধার অভিযানে ২৫ জনের বেশি কর্মী, ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি অগ্নিনির্বাপণ যান অংশ নেয়। আহতদের সরিয়ে নিতে ডেরা ইসমাইল খান থেকে আরও চারটি অ্যাম্বুলেন্স ও কর্মী পাঠানো হয়।

তদন্তের নির্দেশ

ঘটনার বিষয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। আহতদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হামলার জন্য তিনি নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে জারদারি বলেন, নিরীহ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সন্ত্রাসের লক্ষ্যবস্তু করা নিন্দনীয়। তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান আরও কার্যকর করার ওপরও জোর দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও আমান মেলা পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান দুর্বল করার মতো কোনো হামলাই সফল হবে না।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় হামলা বেড়েছে

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলার ঘটনায় সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি মাসের শুরুতে ডেরা ইসমাইল খানের দারাবান এলাকায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে টিটিপির সদস্যদের হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইন্সে বড় ধরনের হামলায় ২৩ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হন। পরদিন রাতভর অভিযানে আট হামলাকারী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।

এর কয়েক দিন পর ওই হামলা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী ঘটনার জবাবে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। দেশটির সরকার দাবি করে, ওই অভিযানে ২৮ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের মাসিক তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত জেলাগুলো বাদে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মূল ভূখণ্ডে আগস্টে ৫৪টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৬টি। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন