বায়ু দূষণের কারণে পডকাস্ট ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ব্রায়ান!

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৪ পিএম

আমেরিকান উদ্যোক্তা ও অ্যান্টি-এজিং বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান জনসন স্টুডিওতে দূষিত বায়ুর কারণে নিখিল কামাথের পডকাস্ট থেকে মাঝপথে বেরিয়ে যান। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতের মারাত্মক বায়ু দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন কেন এটিকে জাতীয় জরুরি ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

জনসন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান, তিনি নিজের সঙ্গে একটি এয়ার পিউরিফায়ার এনেছিলেন, তবে পডকাস্টের রুমে বাইরের দূষিত বাতাসে ভরে গিয়েছিল। ফলে তার পিউরিফায়ার কাজ করছিল না। 

তিনি জানান, রুমের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ১৩০, আর বাতাসের কণা (PM2.5) স্তর ছিল ৭৫ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার, যা ২৪ ঘণ্টায় ৩.৪টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, ভারতে এটি ছিল তার তৃতীয় দিন, এবং দূষিত বায়ুর কারণে তার ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিয়েছিল, চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়াও অনুভব করছিলেন।

এক দীর্ঘ পোস্টে জনসন ভারতের কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন বায়ুর মান জাতীয় জরুরি ইস্যু হিসেবে গণ্য হয় না এবং অর্থ ও ক্ষমতার কী স্বার্থ এতে জড়িত যা সমস্যা সমাধানে বাধা সৃষ্টি করছে।

বায়ু দূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করেন, দূষিত বাতাস ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন নষ্ট করে, ফলে ত্বকে দ্রুত বলিরেখা পড়ে, শুষ্কতা ও জ্বালা অনুভূত হয়। দীর্ঘমেয়াদী দূষণের ফলে হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া, ফুসফুসজনিত রোগসহ কোষের দ্রুত বার্ধক্যজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

জনসনের মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ তার উদ্বেগকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন যে অতি বিশুদ্ধ পরিবেশে থাকার ফলে বাস্তব জীবনের দূষিত পরিবেশে তিনি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়েছেন কি না। 

এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘অত্যন্ত বিশুদ্ধ জীবনধারা অনুসরণ করলে বাস্তব পরিবেশে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায় কি না, তা ভাববার বিষয়।’

জনসনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় নিখিল কামাথের সংস্থা জেরোধা/রেইনম্যাটার জানিয়েছে, তারা বায়ু দূষণ সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তারা আহ্বান জানিয়েছে, "কথা বলার পরিবর্তে আমাদের কাজ শুরু করতে হবে।’

ভারত বহু বছর ধরেই মারাত্মক বায়ু দূষণের সমস্যায় ভুগছে, বিশেষত দিল্লির মতো বড় শহরগুলিতে যেখানে (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) AQI প্রায়ই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যায়। যদিও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

জনসনের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের বায়ু দূষণ সংকট ও এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

FJ/NC
আরও পড়ুন