জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগে আলোড়ন, তদন্তে নামছে বিসিবি

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩০ এএম

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগে ফের আলোচনায় নারী ক্রিকেটের অন্দরমহল। ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহানারা জানিয়েছেন, জাতীয় দলে খেলার সময় তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন। তার অভিযোগের মূল কেন্দ্র সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বিসিবির নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ।

জাহানারার ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ চলাকালে মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তিনি নানাভাবে মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও তিনি যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশের এই সিনিয়র ক্রিকেটার।

তিনি বলেন, এসব ঘটনা সে সময় বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরীকে একাধিকবার জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকেও বিস্তারিত জানানো হয়, কিন্তু ফলশ্রুতিতে কোনো প্রতিকার মেলেনি। জাহানারার দাবি, আরও অনেক নারী ক্রিকেটারই একই রকম অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন, তবে নানা শঙ্কায় তারা নীরব থাকেন।

এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর ক্রীড়া অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযোগগুলোর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। বোর্ড জানায়, নারী ক্রিকেটে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে দৈনিক কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহানারা দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব, অধিনায়ক নিগার সুলতানার সিন্ডিকেট, এবং জুনিয়র ক্রিকেটারদের প্রতি অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। বিসিবি অবশ্য এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন