কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

একদিনের বিরতি দিয়ে কুড়িগ্রামে আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। উত্তর থেকে আসা কনকনে হিমেল হাওয়ার দাপটে জেলাজুড়ে হাড়কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

শীতের তীব্রতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনের অধিকাংশ সময় অর্থাৎ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা জেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে দুপুরের দিকে সূর্যের দেখা মিললে এবং রোদ বাড়লে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। মূলত বিকেল নামার পর থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে এবং কনকনে ঠান্ডার কবলে পড়ে পুরো জেলা।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার। 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠাল বাড়ি ইউনিয়নের শ্রমিক আয়নাল হক বলেন, গত কয়েক দিন থাকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা ঠান্ডা থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে কাজ করতে পারছি না। কাজ না করলে তো সংসার চলে না। বাজারে জিনিস পাতির যে দাম, খুব চিন্তায় আছি।

রাজারহাট উপজেলার টকরাইহাট এলাকার কৃষক আমিন মিয়া বলেন, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও শীতে আলুর খুব ক্ষতি হতে পারে তাই ওষুধ দিচ্ছি। বিঘা প্রতি ওষুধ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি যাচ্ছে। তাতে যদি আলুর দাম না পাই তাহলে আমরা ক্ষতি মুখে পরবো।

একই এলাকার কৃষি শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, খুব শীত আর ঠান্ডা, কি করবো সংসার তো চলা লাগবে তাই জমিতে কাজ করতে এসেছি।

তবে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তরের হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। একইসঙ্গে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এরমধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আজ সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

SN
আরও পড়ুন