এক সপ্তাহেই ৩০ শতাংশ বাড়লো তেলের দাম

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কঠোর বার্তা এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় গত এক সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯২.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজার ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI)-এর দাম একদিনেই ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তেলের বাজারে এক সপ্তাহে এত বড় উল্লম্ফন আগে কখনো দেখা যায়নি।

তেলের বাজারের এই অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ (Unconditional Surrender) ছাড়া এই যুদ্ধ থামবে না। তার এই চরম অনমনীয় অবস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর ফলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় দাম হু হু করে বাড়ছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সাগরে শত শত তেলের ট্যাঙ্কার আটকা পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই সংঘাত দ্রুত না থামে এবং ইরান তার অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে তেলের দাম খুব শীঘ্রই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি কেবল উন্নত দেশ নয়, বরং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপরও চরম মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করবে।

DR/SN
আরও পড়ুন