জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নিয়েও অনিশ্চয়তা কেটেছে। তবে কিছু আসনে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি তারা। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে ১০ থেকে ২০টি আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ফলে ওই আসনগুলোতে জোটভুক্ত দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।
জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষে আজ বুধবার আসন বিন্যাস ও প্রার্থী ঘোষণা হবে। বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব অথবা কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবি পার্টি ও এলডিপি।
সমঝোতা অনুযায়ী, ১৯০ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়বেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এ জোটে ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা নিয়ে ৪৫টি ও এনসিপি শাপলা কলি নিয়ে ২৫ থেকে ৩০টি আসনে লড়বে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টি, খেলাফত মজলিস ছয়টি, এলডিপি ছয়টি, এবি পার্টি দুটি, বিডিপি দুটি এবং খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপা একটি করে আসন পাবে বলে জোটের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘জোটের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। আজ ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে।’
জোট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের ‘সম্মানজনক’ সংখ্যক আসন দাবির বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় মূলত কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আট থেকে ১০টি আসন নিয়ে জটিলতা সবচেয়ে বেশি, যেখানে একাধিক দলের শীর্ষ ও জনপ্রিয় নেতারা একই আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। আসন সমঝোতায় যদি শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য না হয়, তবে কিছু আসনে ‘ওপেন ইলেকশন’ বা উন্মুক্ত নির্বাচন হতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে জোটভুক্ত দুই বা তিনটি দল সমপরিমাণ শক্তিশালী এবং কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ, সেসব আসনে এ পথ বেছে নেওয়া হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা বলেন, আসন নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাওয়া আরেকটু বেশি ছিল। তবে সে সংকট কেটেছে। বৃহত্তর স্বার্থে আমরা একসঙ্গে থাকছি। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শুধু ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেই নয়, আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে। বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা আসবে।’
জোটের আসন সমঝোতার ঘোষণা প্রসঙ্গে সোমবার এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা আগামীকালের ভেতরে দাওয়াত পাবেন, না হলে পরশু। সবার সামনে আমরা একসঙ্গে আসব।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, “আমাদের ‘এ’ গ্রেডের আসন রয়েছে ১৪০টি। আসন সংখ্যা ১০০ বা এর কাছাকাছি হলে আমরা সেটিকে সম্মানজনক বলে মনে করি। কিন্তু জামায়াত সেখানে অনেক কম আসন দিতে চাইছে। তারা সংখ্যাটি ৪০ থেকে ৫০-এর মধ্যে রাখতে চায়। কিছু আসনে সমন্বয়হীনতা রয়েছে, যেখানে জামায়াতের প্রার্থীর প্রায় সমান জনপ্রিয় আমাদের হাতপাখার প্রার্থী। এসব ক্ষেত্রে সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন। সদিচ্ছা থাকলে সমঝোতা কঠিন কিছু নয়।”
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। দ্রুত ঘোষণা করা হবে। এখন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হচ্ছে।
হাদি হত্যার বিচার হতে হবে এ মাটিতে: মির্জা ফখরুল
